চিকিৎসার নামে নরককুণ্ড! দত্তপুকুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রে তরুণীকে ৭ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ, বন্ধ হল কেন্দ্র

দত্তপুকুর: উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে এক নেশামুক্তি কেন্দ্রের ভেতরে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। কেন্দ্রের কর্ণধারের বিরুদ্ধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এক তরুণীকে দীর্ঘ সাত-আট মাস ধরে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ এবং বিতর্কিত ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অসংলগ্ন জীবনযাপনে অভ্যস্ত দত্তপুকুরের ওই তরুণীকে মাসকয়েক আগে চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সুস্থ করে তোলার পরিবর্তে ওই তরুণীর ওপর অকথ্য শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, তাঁকে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে এই কুকীর্তি চালিয়ে গেছেন কেন্দ্রের কর্ণধার।
চলতি মাসেই ওই কেন্দ্র থেকে ছাড়া পান নির্যাতিতা তরুণী। এর পরেই গত সোমবার রাতে আইনজীবী গৌরব মুখোপাধ্যায়ের সহায়তায় বারাসাত আদালতের মাধ্যমে দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয় পুলিশ এবং সোমবার গভীর রাতে মূল অভিযুক্ত কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুধু ওই তরুণীই নন, নেশামুক্তি কেন্দ্রে থাকা অন্যান্য নারী ও পুরুষ আবাসিকদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার আইনজীবী জানান, ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার জেরে তরুণী এখনও মারাত্মক আতঙ্কে রয়েছেন এবং তাঁর প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত কর্ণধারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূল অভিযুক্তকে মঙ্গলবার বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ বা কেন্দ্রের কোনো কর্মচারী যুক্ত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।