‘হুকুম করলে হবে না, ভালোবেসে বোঝান!’ যুব আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রকে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁস এবং জাঁকিয়ে বসা রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বর্তমান যুবসমাজকে সামলানো নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তরুণ প্রজন্মকে কেবল নির্দেশ বা হুকুম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মোহন ভাগবতের সাফ কথা, বর্তমান প্রজন্মকে ভালোবেসে, যুক্তি দিয়ে এবং তাঁদের কথা গুরুত্ব দিয়ে তবেই বোঝাতে হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই বক্তব্য প্রকারান্তরে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রশাসনের অনড় মনোভাবের ঠিক বিপরীত সুরেই বাঁধা।
নয়াদিল্লির ড. আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত ‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’ নামক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন সঙ্ঘপ্রধান। সেখানে পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা যখন ছোট ছিলেন, তখন বড়দের নির্দেশ অন্ধের মতো মেনে চলার যুগ ছিল। কিন্তু আজ সময় সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। আজকের প্রজন্ম সবকিছুর পিছনে যুক্তি খোঁজে এবং প্রশ্ন করতে ভালোবাসে। তাই তাঁদের সঠিক দিশা দেখাতে হলে সবার আগে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারগুলিতে পারস্পরিক আলোচনা ও খোলামেলা কথোপকথনের পরিবেশ কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
যদিও নিজের বক্তব্যে তিনি সরাসরি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা যন্তর মন্তরের চলমান আন্দোলনের নাম নেননি, এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার প্রসঙ্গও এড়িয়ে গেছেন। তবে যন্তর মন্তরের আন্দোলন এবং পুলিশি সংঘর্ষের আবহে ভাগবতের এই মন্তব্যকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এই বিষয়ে তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন। ইতিমধ্যে CJP এবং সরকারের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও রফাসূত্র মেলেনি। অন্যদিকে, সঙ্ঘের অপর নেতা ইন্দ্রেশ কুমার এই আন্দোলনের পিছনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শক্তির মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। সবমিলিয়ে, বর্তমান প্রশ্নফাঁস এবং বিক্ষোভের আবহে মোহন ভাগবতের এই বার্তা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।