মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, মেয়ের কীর্তিতে পুলিশের কাছে ক্ষমা চাইলেন মা

নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে আইনি বিপাকে পড়েছেন ২৫ বছর বয়সি রুচিকা সিং। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বিতর্ক চরম আকার ধারণ করতেই মুখ খুলেছেন রুচিকার মা এবং পুলিশের কাছে মেয়ের আচরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।
রুচিকার মা জানান, ঘটনার পর তাঁরা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে একটি ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছি। যা ঘটেছে তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ: গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দা নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতেই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উসকানি), ৩৫৩(১) (জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি) এবং ৩৫৬(১) (মানহানি) ধারায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) নথিভুক্ত করে। ঘটনাটি দিল্লির একতিয়ারভুক্ত হওয়ায় মামলাটি দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ রুচিকা সিংকে শনাক্ত করে এবং নয়ডায় তাঁর বাসস্থানে পৌঁছায়।
ছদ্মবেশ ও নিখোঁজ রহস্য: যে স্যালনে রুচিকা কাজ করতেন, তার মালিক শালিনী জানান যে রুচিকা সেখানে কাজ শিখতে এসেছিলেন। তিনি কোনো আসল পরিচয়পত্র দেননি এবং রেজিস্টারে নিজের নাম ‘মেনশিল’ (ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের নাম) লিখতেন। পরবর্তীতে তাঁকে স্যালন ছেড়ে দিতে বলা হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন রুচিকা। নয়ডার যে আবাসনটিতে তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন, সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর ওই এলাকায় দেখা যায়নি। পুলিশ বর্তমানে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।