হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা, জ্বালানি ও সার সংকট রুখতে ‘সবুজে’ ভরসা মোদির

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে। এই সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তো বটেই, ভারতের জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে সম্প্রতি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (সিসিএস) বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সিসিএস-এর এটি ছিল চতুর্থ বৈঠক।
বৈঠকে পেট্রোলিয়াম পণ্য, এলএনজি, এলপিজি এবং সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের বিকল্প উৎস চিহ্নিত করা গেছে এবং বর্তমানে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের মজুত পর্যাপ্ত। একই সঙ্গে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের কাজও জোরকদমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী রবি মরশুমে কৃষকদের যাতে সারের কোনো ঘাটতি না হয়, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংকটময় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিক ও সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে কেন্দ্র করে পিএমও (PMO)-কে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা ভারতীয়দের সময়মতো সাহায্য এবং জরুরি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে বৈদেশিক আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির (Renewable Energy) ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘Whole of Government Approach’ বা সরকারের সবকটি বিভাগকে একজোট হয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।