ফুটবল বিশ্বকাপ ‘বিক্রি’ হয়ে যাচ্ছে? মুখ খুললেন ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো

কলকাতা: ফুটবল বিশ্বকাপ কি তবে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল? সম্প্রতি ফিফার একটি গোপন পরিকল্পনা সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ব ফুটবল। তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইউরোপের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা UEFA সহ বিভিন্ন সদস্য দেশ। চতুর্দিক থেকে আসা প্রবল চাপের মুখে পড়ে অবশেষে বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
কী ছিল ফিফার মূল পরিকল্পনা?
ফিফার পরিকল্পনা ছিল পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক দিক সামলানোর জন্য একটি নতুন বিশেষ ইউনিট গঠন করা। সেই ইউনিটের প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। এই হিসাব অনুযায়ী পুরো টুর্নামেন্ট ব্যবসার বাজারমূল্য ধরা হয় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
উয়েফার তীব্র প্রতিবাদ ও ‘বয়কট’-এর হুমকি
সংবাদটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে উয়েফা। তারা সরাসরি অভিযোগ করে— টাকার লোভে ফিফা আসলে ‘ফুটবলের আত্মা বিক্রি করতে চাইছে’। কোনো বাইরের বিনিয়োগকারীর হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া যাবে না দাবি করে উয়েফা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেয়, এই পরিকল্পনা বাতিল না করলে তারা ফিফার সমস্ত টুর্নামেন্ট বয়কট করবে।
নতিস্বীকার ইনফান্তিনোর
চারদিকের বিরোধিতা ও উয়েফার বয়কট হুমকির মুখে নড়েচড়ে বসে ফিফা। এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, সংস্থা আর এই প্রজেক্ট নিয়ে এগোবে না। তিনি বলেন:
“আমরা সব পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। বুঝতে পেরেছি এই প্রকল্প বিভাজন তৈরি করছিল, যা আমাদের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। আমাদের মূল লক্ষ্য ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা।”
ফিফার ভেতরেই বিদ্রোহ ও ইস্তফা
শুধু বাইরেই নয়, ফিফার ভেতরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল:
- উপদেষ্টার পদত্যাগ: ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো হঠাৎ ইস্তফা দেন। তিনি এই পরিকল্পনাকে ‘ফুটবলের জন্য একটি বাজে চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন।
- সিওও-র বিস্ফোরক অভিযোগ: ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, ইনফান্তিনো কর্মীদের বিভ্রান্ত করেছেন এবং এটি আদতে ফুটবল বা সংস্থার স্বার্থে নয়, স্রেফ ‘একজন ব্যক্তির নিজস্ব প্রজেক্ট’ ছিল।
ট্রাম্প কানেকশন!
এই বিতর্কিত চুক্তির নেপথ্যে উঠে এসেছে মার্কিন রাজনীতি ও ক্ষমতার সংযোগ। জানা গেছে, যে ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’ ফান্ড এখানে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল, তার নেতৃত্বে রয়েছেন জোশুয়া কুশনার। জোশুয়া হলেন জ্যারেড কুশনারের ভাই, আর জ্যারেড হলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই! ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ট সম্পর্কের কারণেই কি এমন চুক্তি তৈরির চেষ্টা চলছিল?—এই নিয়ে এখন জোর জল্পনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে।