‘হরির লুট চলবে না!’: বীরভূমের পাথর খাদান দুর্নীতি রুখে রাজকোষ চাঙ্গা করার হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

বালি, পাথর ও কয়লা পরিবহণে সব ধরনের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই নির্দেশের পরেই বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও প্রশাসন বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে।
সম্প্রতি বীরভূমে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল ঘনিষ্ঠ নিজামুদ্দিন ওরফে ‘টুলু’ মণ্ডলের নাম জড়ায়। শনিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে পাথর খাদান থেকে আসা সরকারি রাজস্ব ঠিকমতো কোষাগারে জমা পড়ত না। কিন্তু এখন আর এক পয়সাও বেহাত হতে দেওয়া হবে না।” সরকার ইতিমধ্যে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমের একটি জেলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “একটি জেলাতেই আক্ষরিক অর্থে হরির লুট চলেছে। আমরা সেখানে ক্র্যাকডাউন করেছি এবং অন্যান্য জেলাতেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যে অর্থসচিব জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় রাজ্যের রাজস্ব আয় ১২ শতাংশ বেড়েছে। চলতি আর্থিক বছর শেষে এই বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
পাথর খাদান থেকে সরকারি আয়ের একটি তুলনামূলক হিসেব দিয়ে তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বছরে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজকোষে জমা পড়ত। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, ১১ মে থেকে ১১ জুন—মাত্র এক মাসেই এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, “বছরে মাত্র ১০০ কোটি টাকা জমা পড়া মানে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা কালো পথে বেহাত হয়ে যাওয়া। শুধু বীরভূম জেলাতেই একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র থেকে রাজ্য সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে শুধু বীরভূমের পাথর খাদান থেকেই প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা উধাও করে দেওয়া হয়েছে! এই টাকা রাজকোষে থাকলে তা দিয়ে নতুন স্কুল, হাসপাতাল কিংবা হাজার হাজার বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হতে পারত।”
প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরানোর কঠোর বার্তার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের উদাহরণ তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল নেতারা যে বেআইনি বালির পাহাড় জমিয়ে রেখেছিল, তা নিলাম করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই বালি প্রকাশ্যে নিলাম করে রাজ্য সরকারের কোষাগারে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই টাকা বাংলার সাধারণ মানুষের টাকা, আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে।”