নথি না দেখেই ভাঙচুর! কলকাতা পুরসভাকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

নথি না দেখেই ভাঙচুর! কলকাতা পুরসভাকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

নিজের দপ্তরের নথি না দেখেই ফ্ল্যাটের বৈধ অংশ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠল কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে! পুর কর্তৃপক্ষের এই খামখেয়ালি মনোভাব এবং ‘অজুহাত’ শুনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট।

আসল ঘটনাটি কী?

ঘটনার সূত্রপাত এন্টালির আনন্দ পালিত রোডের একটি বহুতলকে কেন্দ্র করে। ওই বহুতলের পাঁচ তলার এক ফ্ল্যাট মালিক হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, পুরসভার অনুমোদিত নকশা (G+4) দেখেই তিনি ওই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন এবং পুরসভার নথিতে তাঁর নামও নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রোমোটার গায়ের জোরে ওই বিল্ডিংয়ের ওপর আরও দু’টি বেআইনি তলা (৬ষ্ঠ ও ৭ম তলা) নির্মাণ করেন।

অভিযোগ, সেই বেআইনি অংশ ভাঙতে এসে কলকাতা পুরসভা মামলাকারীর পাঁচ তলার বৈধ ফ্ল্যাটের ছাদটিই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পুরসভার যুক্তি ও আদালতের কড়া অবস্থান

আদালতের নির্দেশে রিপোর্ট জমা দিয়ে কলকাতা পুরসভা দাবি করে, পরিদর্শনের সময় ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলার কোনো নকশা দেখানো হয়নি, তাই ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ তলার ছাদ ভেঙে ফেলার বিষয়ে পুরসভার অদ্ভূত যুক্তি—“অনুমোদিত নির্মাণের নথিটি সংশ্লিষ্ট এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের নজরে আনা হয়নি।”

পুরসভার এই যুক্তিকে একেবারেই গ্রহণ করেনি আদালত। মামলাটির শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান:

“নিজের দপ্তরের নথি খতিয়ে না দেখেই ভাঙার নির্দেশ দিয়ে পরে ‘নজরে আনা হয়নি’ বলে দায় এড়ানো যায় না। পুর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত বেপরোয়া ভাবে কাজ করেছে। কোনো নির্দেশ দেওয়ার আগে নিজের দপ্তরের নথি যাচাই করা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরই প্রাথমিক দায়িত্ব।”

হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ

  • ৮ সপ্তাহের মধ্যে পুনর্নির্মাণ: ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটের ছাদটি আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
  • ক্ষতিপূরণের সুযোগ: এই ভুলের কারণে ফ্ল্যাট মালিকের যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য তাঁকে উপযুক্ত আইনি ফোরামে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *