৬ মাসে ২৫৭টি ঘটনা, ৪৪ খুন! তারেক রহমানের বাংলাদেশে কেমন আছেন হিন্দুরা? পরিসংখ্যান পেশ করে উদ্বেগ প্রকাশ তসলিমার

কলকাতা: দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন বিতর্কিত ও চর্চিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। প্রতিবেশী দেশে ক্ষমতার রদবদল হলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের—বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন ও নিরাপত্তার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছেন তিনি। উল্টে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন বিএনপির তারেক রহমানের জমানাতেও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও অরাজকতা চরম আকার ধারণ করেছে।
কী বলছে পরিসংখ্যান? বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) দেশটিতে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২৬১ জন সংখ্যালঘু মানুষ সরাসরি আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
- খুন: ৪০টি পৃথক ঘটনায় ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
- উপাসনালয়ে হামলা: ৬২টি ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং ১৫টি জায়গায় উপাসনালয়ের জমি দখল করা হয়েছে।
- বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান: ৪৭টি স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
- অন্যান্য অপরাধ: নারী নির্যাতন, অপহরণ, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল এবং ধর্ম অবমাননার ভুয়া অভিযোগে গ্রেফতার ও শাসনের মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
তসলিমার উদ্বেগ ও ক্ষোভ: গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে শ্রীরামচন্দ্রের ৮১ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা এবং উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করা নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তসলিমা। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে লাগাতার ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
নির্যাতনের কৌশলে বদল: মাথাচাড়া দিচ্ছে ‘মব-সন্ত্রাস’ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলির (যেমন: আইন ও সালিশ কেন্দ্র, হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ) যৌথ রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধরন বদলেছে। শেখ হাসিনার আমলেও অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতি ছিল, কিন্তু বর্তমান তারেক রহমান ও বিগত ইউনূস জমানায় যুক্ত হয়েছে সংগঠিত ‘মব-সন্ত্রাস’ (Mob Violence)। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩,১০০টিরও বেশি হিংসাত্মক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সরকার বদল এবং প্রশাসনিক সংস্কারের বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে বাংলাদেশের ৬২টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বর্তমান প্রশাসন।