‘কুকুর-বিড়াল দাঁড় করালেও জিতবে!’ বিহারে অহঙ্কারের চরম মাশুল গুনে হারল বিজেপি

বিহার ও মধ্যপ্রদেশের উপনির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি! এতদিন ধরে যে আসনগুলিকে নিজেদের ‘নিরাপদ দুর্গ’ বলে মনে করত গেরুয়া শিবির, সেখানেই এই অপ্রত্যাশিত পরাজয় দলের অন্দরে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির ঐতিহ্যগত মূল ভোটব্যাংক বা ‘কোর ভোটাররা’ বোধহয় এবার মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি, দলে প্রবীণদের সরিয়ে নতুনদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা-ও এখন মারাত্মক অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মুখে পড়েছে।
এনডিএ (NDA)-র শরিক দলগুলির নেতারা এই হারকে বিজেপির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, জয়ের ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি এবং জনগণকে ‘হালকাভাবে নেওয়া’ই এই ফলাফলের মূল কারণ।
🏰 দুর্গে কেন ধস নামল?
- বিহারের বাঁকিপুর: ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসনটি বিজেপির দখলে ছিল। সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এখান থেকে টানা পাঁচবার জিতেছেন, তার আগে তাঁর বাবাও এই এলাকার বিধায়ক ছিলেন। নীতিন নবীন সর্বভারতীয় দায়িত্ব পাওয়ার পর আসনটি খালি হয়। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং প্রার্থী নির্বাচনে বারংবার রদবদল (প্রথমে অভিষেক কুমার সিনহা ও পরে নিরাজ কুমার) ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে বড় আঘাত আসে এক বিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে— “বিজেপির টিকিটে কুকুর-বিড়াল দাঁড়ালেও জিতবে।” শরিক দল এলজেপি (LJP)-র দাবি, এই চরম অহংকার সাধারণ মানুষের সম্মানে আঘাত করেছিল।
- মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া: দুই দশক ধরে প্রভাব ধরে রাখা বর্ষীয়ান নেতা নরোত্তম মিশ্রকে সরিয়ে তরুণ প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারিকে টিকিট দেয় দল। ক্ষুব্ধ নরোত্তম মিশ্রের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে, যার খেসারত দিতে হয় নির্বাচনে হেরে।
❓ প্রশ্ন উঠছে নতুন নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে
বাঁকিপুরের এই হার সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে। নীতীশ কুমারের পর দায়িত্ব নেওয়া সম্রাট চৌধুরীর জন্য এটিই ছিল প্রথম বড় পরীক্ষা। ‘জন সুরাজ’ প্রধান প্রশান্ত কিশোর এই উপনির্বাচনকে সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘গণভোট’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ফল প্রকাশের পর প্রশান্ত কিশোরের দাবি, বিহারের জনগণ বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।