গ্লাসগো জয় করে দেশে ফিরলেন ‘সোনার মেয়ে’ অস্মিতা, বিমানবন্দরে রাজকীয় বরণ!

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জুডোর ম্যাটে ইতিহাস গড়ে সোমবার রাতে সগৌরবে দেশে ফিরলেন ভারতের চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলিট অস্মিতা দে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে জানানো হয় এক বর্ণাঢ্য ও রাজকীয় অভ্যর্থনা। গলায় ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক থাকলেও অস্মিতার ব্যবহারে ছিল না কোনো অহংকার, বরং তাঁর চোখে মুখে স্পষ্ট নতুন প্রজন্মের জন্য বড় এক স্বপ্ন।
খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য গল্প
কানাডার শক্তিশালী প্রতিযোগী হেইডি কোয়াচের বিরুদ্ধে ফাইনালে একটি সময়ে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন অস্মিতা, ওপরন্তু ভুল করার জন্য পেতে হয়েছিল পেনাল্টিও। কিন্তু চরম মানসিক দৃঢ়তা আর অদম্য জেদ নিয়ে লড়াইয়ে ফেরেন ত্রিপুরার এই কন্যা। ‘গোল্ডেন স্কোর’ পর্বে নির্ণায়ক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে দেশের জন্য জুডোতে ঐতিহাসিক প্রথম সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী অস্মিতা বলেন, “আমি মনে মনে ঠিক করেই নিয়েছিলাম সোনাটাই জিতব। তাই যেকোনো মূল্যে আমায় জিততেই হতো।”
জুডোতে ভারতের ‘গোল্ডেন যুগ’
চলতি কমনওয়েলথ গেমসে জুডো থেকে ভারতের ঝুলিতে এসেছে মোট ৪টি পদক (২টি সোনা, ১টি রুপো এবং ১টি ব্রোঞ্জ)। অস্মিতার পাশাপাশি পুরুষদের বিভাগে সোনা জিতেছেন হর্ষ সিং, রুপো পেয়েছেন যামিনী মৌর্য এবং ব্রোঞ্জ এনেছেন উন্নতি শর্মা। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে জুডোতে এমন অভাবনীয় সাফল্য আগে কখনো দেখা যায়নি।
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা
ঐতিহাসিক পদক জয়ের পর অস্মিতার মূল লক্ষ্য এখন দেশে জুডো খেলার ব্যাপক প্রসার ঘটানো। তিনি চান আগামী দিনে দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা টিভি ছেড়ে ম্যাটে নেমে জুডো চর্চা শুরু করুক।
অস্মিতার ভাষায়, “প্রথমবার ভারত জুডোতে এতগুলো পদক জিতল, এটা বিশাল বড় ব্যাপার। এবার দেশের মানুষ জুডোকে গুরুত্ব দিয়ে চিনবে। আমি চাই আরও অনেক শিশু ও তরুণ প্রতিভা এই খেলায় আসুক এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করুক।”
যে জুডো খেলা নিয়ে একসময় সাধারণ মানুষের খুব একটা আগ্রহ ছিল না, অস্মিতা দে ও গোটা ভারতীয় টিমের এই যুগান্তকারী সাফল্য দেশের ক্রীড়াজগতে জুডোর এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করল।