লিভ-ইন সম্পর্কেও মিলবে গার্হস্থ্য হিংসার সুরক্ষা! সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীদের আইনি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায় অনুযায়ী, এখন থেকে ‘বিবাহ-সদৃশ’ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনো নারীও বিবাহিত স্ত্রীর মতোই ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৪৯৮এ (498A) ধারায় গার্হস্থ্য হিংসা ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা পাবেন।
বিচারপতি সঞ্জয় করোলে এবং বিচারপতি এন. কোটিশ্বর সিং-এর যৌথ বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। আদালতের মতে, ধারা ৪৯৮এ-এর মূল উদ্দেশ্যই হলো নারীদের পারিবারিক অত্যাচার ও হেনস্থা থেকে রক্ষা করা। কোনো নারী যদি বিবাহিত না হওয়া সত্ত্বেও ‘বিবাহ-সদৃশ’ লিভ-ইন সম্পর্কে থেকে অত্যাচারের শিকার হন, তবে কেবল আনুষ্ঠানিক বিয়ের নথিপত্র নেই—এই অজুহাতে তাঁকে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতার নীতির বিরোধী।
⚠️ সব লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম ঢালাওভাবে কার্যকর হবে না। আইনি সুরক্ষা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট মহিলাকে প্রমাণ করতে হবে যে:
- তাঁদের সম্পর্কটি ‘বিবাহ-সদৃশ’ ছিল।
- সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই পরস্পরকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক ছিলেন।
শুধুমাত্র একসাথে বসবাস করাকেই ৪৯৮এ ধারার অধীনে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য বলে ধরা হবে না। সম্পর্কটির ধরণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
⚖️ মামলার নেপথ্যে যা ঘটেছিল
কর্নাটক হাইকোর্টের একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। অভিযোগকারী নারী জানান, এক ব্যক্তি প্রথম বিয়ের খবর গোপন করে তাঁর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার, শারীরিক নিগ্রহ এবং এমনকি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে বাঁচানোর যুক্তি দিয়ে দাবি করেন যে, তাঁদের বিয়েটি আইনি ছিল না, তাই ৪৯৮এ ধারা অনুযায়ী তিনি ওই নারীর ‘স্বামী’ নন। তবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়।
🔍 ৪৯৮এ ধারা ও গার্হস্থ্য হিংসা আইনের পার্থক্য
আদালত উল্লেখ করেছে যে, ‘২০০৫ সালের গার্হস্থ্য হিংসা আইন’ অনুযায়ী লিভ-ইন সম্পর্ক ইতিপূর্বেই দেওয়ানি (Civil) প্রতিকারের আওতায় ছিল। তবে নতুন এই পর্যালোচনার ফলে এখন ৪৯৮এ ধারার অধীনে পুরুষ সঙ্গীর বিরুদ্ধে সরাসরি ফোজদারি (Criminal) পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
গ্রেফতারির নির্দেশিকা: আইনের অপব্যবহার রুখতে সুপ্রিম কোর্ট পুলিশকে সতর্ক করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই ধরণের মামলায় পুলিশকে ‘অর্ণেশ কুমার বনাম বিহার রাজ্য’ মামলার নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক তদন্ত ও সঠিক কারণ ছাড়া কাউকে হুট করে গ্রেফতার করা যাবে না।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তের আর্জি খারিজ করে দেয় এবং মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করে।