“পাঁচ বছরেও শেষ হয় না মামলা, নজির গড়ুন!”— ভবানীপুর নির্বাচন মামলায় হাইকোর্টে তোপ কল্যাণের
August 4, 20267:26 pm

কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া ইলেকশন পিটিশন (Election Petition) মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় মোড়। মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাটি দ্রুত শেষ করে একটি নতুন নজির স্থাপন করার জন্য তিনি আদালতের কাছে জোর আর্জি জানান।
শুনানিতে যা ঘটল:
- কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ: শুনানির শুরুতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, “মাই লর্ড, পাঁচ বছরেও ইলেকশন পিটিশনের ফয়সালা হয় না! এবার অন্তত একটি নজির তৈরি করুন।” নিজের দীর্ঘ আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, পাঁচ বছরের মেয়াদের শেষ তিন মাসে একটিমাত্র মামলার নিষ্পত্তি হতে দেখেছেন তিনি। এর জবাবে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত জানান, মামলাটি দ্রুত শেষ করার সবরকম চেষ্টা করা হবে।
- শুভেন্দু ও কমিশনকে নির্দেশ: এই মামলায় প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী তাঁর লিখিত বক্তব্য পেশ করার জন্য সময় চান। আদালত তাঁকে ৪ সপ্তাহ সময় দিয়ে লিখিত জবাব জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নোটিশ নিয়ে বিচারপতির প্রশ্ন: শুনানিকালে ১৭ জন নোটিশ পাওয়ার পরেও মাত্র ৩ জন কেন হাজির হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তিনি সকলকে পুনরায় নতুন করে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন।
- রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি বিতর্ক: ভবানীপুরের অন্য এক প্রার্থী এই মামলায় যুক্ত হতে চেয়ে সরাসরি রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি সেই চিঠির কোনো অনুলিপি পাননি। এভাবে চিঠির মাধ্যমে মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়া যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিচারপতি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন।
উল্লেখ্য, আগামী চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ২৩ জুন কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল ভবানীপুর কেন্দ্রের সমস্ত নির্বাচনী নথি, ইভিএম-এর ইলেকট্রনিক ডেটা, ভিভিপ্যাট (VVPAT) এবং সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত রাখতে।