পুজোর আগেই ধামাকা! ১ অক্টোবর থেকে ৩৮% ডিএ পাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা, জারি নবান্নের বিজ্ঞপ্তি

পুজোর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটল। মঙ্গলবার মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর। ঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের মূল বেতনের ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। শুধু কর্মরত কর্মচারীই নন, সমপরিমাণ হারে মহার্ঘ ত্রাণ (DR) পাবেন রাজ্য সরকারের সমস্ত পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরাও।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাজেট পেশের সময় ডিএ বৃদ্ধির এই ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার নবান্নের অর্থ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাতেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হলো।
এক নজরে নতুন ডিএ-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- কারা সুবিধা পাবেন? রাজ্য সরকারি কর্মচারী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, পুরনিগম, সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
- নতুন ডিএ/ডিআরের হার: মূল বেতনের ৩৮ শতাংশ (বর্তমানে পান ১৮%, বাজেট ঘোষণার অতিরিক্ত ২০% যোগ হয়ে মোট ৩৮% হচ্ছে)।
- কবে থেকে কার্যকর? ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে।
- হিসাবের নিয়ম: ডিএ কেবল সংশোধিত মূল বেতন (Basic Pay) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স (NPA)-এর ওপর নির্ধারিত হবে। অন্য কোনও ভাতার ওপর এটি কার্যকর হবে না। হিসাবের টাকা নিকটতম পূর্ণ টাকায় (Round Off) ধরা হবে।
পেনশনভোগী ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা:
১. পেনশনভোগীদের জন্য: ১ অক্টোবর থেকে রাজ্য সরকারের পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা তাঁদের সংশোধিত পেনশনের ৩৮ শতাংশ হারে ডিআর পাবেন।
২. পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনস্থ কর্মী: যাঁরা এখনও পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বেতন পান, তাঁদের ডিএ ১৭১% থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২২৩% করা হয়েছে।
৩. রোপা-২০০৯ অনুযায়ী অ-সংশোধিত পেনশন: রোপা ২০০৯ অনুযায়ী যাঁরা এখনও সংশোধিত হারে পেনশন পান না, তাঁরা নতুন সংশোধন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ২২৩% হারেই ডিআর পেতে থাকবেন।
৪. দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মী: ন্যূনতম মজুরি আইনের আওতায় না থাকা দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মীদের পারিশ্রমিক আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রতিদিনের জন্য ১১০ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি সংস্থাগুলিকে এই অতিরিক্ত ডিএ-এর খরচ নিজেদের তহবিল থেকেই বহন করতে হবে; এর জন্য আলাদা কোনও সরকারি অনুদান মিলবে না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলি পুজোর মাস থেকেই কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই বাড়তি টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।