‘যাত্রীগণ কৃপয়া ধ্যান দে…’— ট্রেন ঘোষণার নেপথ্যে থাকা সেই চেনা কণ্ঠের আসল সত্যিটা জানেন?

রেল প্ল্যাটফর্মে পা রাখলেই লাউডস্পিকারে ভেসে আসে সেই সুপরিচিত সুর— ‘যাত্রীগণ কৃপয়া ধ্যান দে…’। দেশের ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই এভাবে ট্রেনের আনাগোনা, সময়সূচি বা প্ল্যাটফর্ম নম্বর ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই কণ্ঠের পেছনে আসলে কে রয়েছেন? স্টেশনের কোনো কেবিনে কি কেউ সারাদিন মাইক্রোফোন হাতে বসে থাকেন?
মাইক্রোফোন নয়, কম্পিউটারের খেলা
আসল বিষয়টি হলো— বর্তমান যুগে স্টেশনের অধিকাংশ ঘোষণাই কোনো মানুষ সরাসরি করেন না। পুরোটাই চলে একটি আধুনিক ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার (Automated System) মাধ্যমে। ভারতীয় রেলের ‘ক্রিস’ (CRIS – Centre for Railway Information Systems) এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম যৌথভাবে এই কাজ পরিচালনা করে।
ট্রেনটি মুহূর্তে ঠিক কোথায় রয়েছে, কখন প্ল্যাটফর্মে ঢুকবে কিংবা ট্রেন বা প্ল্যাটফর্মের কোনো রুট পরিবর্তন হলো কিনা— এই সব তথ্য রেলের সেন্ট্রাল ডেটাবেসে আপডেট হওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তা বিশ্লেষণ করে নেয়। এরপর কম্পিউটারে আগে থেকে রেকর্ড করা কণ্ঠ ব্যবহার করে বার্তাটি লাউডস্পিকারে বাজিয়ে দেওয়া হয়।
কেন এই আধুনিক ব্যবস্থা?
সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক হওয়ায় এই ব্যবস্থায় ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। যাত্রীরা মুহূর্তের মধ্যে একদম সঠিক ও নিখুঁত তথ্য পেয়ে যান। ফলে প্রতিটি স্টেশনে আলাদা করে কাউকে সারাক্ষণ অ্যানাউন্সমেন্ট করার জন্য বসে থাকতে হয় না।
মানুষের ভূমিকা কি তবে একেবারেই নেই?
ঘোষণার বড় অংশ কম্পিউটারের মাধ্যমে হলেও মানুষের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কোনো জরুরি পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা বা হঠাৎ বিশেষ কোনো নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে স্টেশনের দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীরাই সরাসরি মাইক্রোফোনে লাইভ অ্যানাউন্সমেন্ট করে থাকেন।
রেলের এই ডিজিটাল রূপান্তর যাত্রীদের সফরকে করেছে আরও সহজ, নির্ভুল এবং সুবিধাজনক।