‘প্রাণভয় ভুলে আবারও ফিরব’, ১৯৮১-র ইতিহাস মনে করিয়ে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বড় ঘোষণা

‘প্রাণভয় ভুলে আবারও ফিরব’, ১৯৮১-র ইতিহাস মনে করিয়ে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বড় ঘোষণা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট—বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালিমালিপ্ত দিন। একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতীর হামলায় ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে প্রাণ হারান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেই সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, কারণ তাঁরা তখন অবস্থান করছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে।

বাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর চাইলেও দেশে ফিরতে পারেননি হাসিনা। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৬ বছর তাঁকে কাটাতে হয় নির্বাসনে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মুজিব-কন্যাকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেন। নয়াদিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থেকেই ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৮১ সালের সেই ঐতিহাসিক দিন

সকল বাধা ও জীবনের চরম ঝুঁকি উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা অবশেষে বাংলাদেশে পা রাখেন। সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথ ভেসে গিয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে। আওয়ামী লীগ কর্মীদের মতে, সেদিন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। সেদিন দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বলেছিলেন:

“আমি ক্ষমতার বা নেত্রী হওয়ার লোভে ফিরিনি; আমি এসেছি আপনাদের বোন হয়ে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক সাধারণ কর্মী হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।”

১৯৮১ বনাম ২০২৬: প্রেক্ষাপট কতটা বদলেছে?

সম্প্রতি ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৮১ সালের মতো এবারও তিনি সকল রক্তচক্ষু ও জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে বাংলাদেশে ফিরতে চান। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক।

  • দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত: ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফিরেছিলেন বিরোধী দলের উদীয়মান নেত্রী হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত।
  • বর্তমান সরকারের অবস্থান: বাংলাদেশে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার ও জামায়াতে ইসলামী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • কূটনৈতিক স্নায়যুদ্ধ: ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়ছে। অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকার বিষয়টিকে ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা’ হিসেবে দেখছে।

১৯৮১ সালেও বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, আজও তাঁরই দল বাংলাদেশ শাসন করছে। চার দশক আগে যিনি সমস্ত বাধা ভেঙে দেশে ফিরেছিলেন, পরিবর্তিত এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে শেখ হাসিনা কীভাবে ও কবে ফিরবেন—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *