জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় জয়, ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ায় ভারতের মাস্টারস্ট্রোক

বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের অনিশ্চিত বাজারে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে দেশের শীর্ষ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার নতুন পেট্রোলিয়াম আইনের অধীনে দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল ব্লক পরিচালনার কাজ হাতে নিতে চলেছে ওএনজিসি।
ভেনেজুয়েলায় তেল ক্ষেত্র পরিচালনার স্বাধীনতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (OFAC) থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পর ওএনজিসি বিদেশ-এর পথ সুগম হয়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সান ক্রিস্টোবাল প্রকল্পে ৪০% এবং কারাবোবো-১ প্রকল্পে ১৮% অংশীদারিত্ব রয়েছে সংস্থাটির।
ওএনজিসি-র অর্থ পরিচালক অনুপম আগরওয়াল জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে সেখানে কাজ করা সীমিত ছিল। তবে নতুন লাইসেন্স ও ভেনেজুয়েলার নতুন আইনি সুবিধার ফলে তারা এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা পিডিভিএসএ (PDVSA)-র কাছ থেকে এই প্রকল্পগুলোর পরিচালন ক্ষমতা সরাসরি ওএনজিসি-র হাতে আসবে, যা তাদের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক লাভ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
রাশিয়ায় সাখালিন-১ প্রকল্পে সফল প্রত্যাবর্তন
শুধু ভেনেজুয়েলাই নয়, রাশিয়াতেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় জয় পেয়েছে ভারত। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ চার বছর পর রাশিয়ার বিখ্যাত ‘সাখালিন-১’ তেল ও গ্যাস প্রকল্পে নিজেদের ২০% অংশীদারিত্ব সফলভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ওএনজিসি। এর ফলে এই প্রকল্প থেকে ওএনজিসি-র ত্রৈমাসিক আয় প্রায় ৫-৬ বিলিয়ন রুপি থেকে লাফিয়ে ১০ বিলিয়ন রুপিতে (প্রায় ১০৫.১৩ মিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় দূরদর্শী পদক্ষেপ
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে বিদেশে নিজেদের তেলের উৎস বা পোর্টফোলিও বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
মার্কিন বিধিনিষেধ ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার এই প্রকল্পগুলোতে ওএনজিসি-র সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহকে আরও সুদৃঢ় ও সাশ্রয়ী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।