উচ্চস্বরে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় মুম্বইয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, প্রাণ হারালেন বাবা ও নাবালক ছেলে

মুম্বই: ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গমগম করছিল ডিজে সাউন্ড। ঘুম ভেঙে যাওয়ায় শুধু একটু প্রতিবাদই করেছিলেন পরিবারের কর্তা। আর সেটাই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ! উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে বচসার জেরে মুম্বইয়ের ভিখরোলিতে এক পরিবারের ওপর ঘটল হাড়হিম করা হামলা। প্রতিবেশীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বাবা ও তাঁর ১৪ বছর বয়সী কিশোর ছেলের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবারের আরও দুই সদস্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৬ই আগস্ট ভোররাতে মুম্বইয়ের ভিখরোলি পশ্চিমের পার্কসাইট থানার অধীনস্থ রাহুল নগর এলাকায় এই ভয়াবহ কাণ্ডটি ঘটে। এলাকায় উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। এর তীব্র প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বিশ্বকর্মা পরিবারের সদস্যরা। গান বন্ধ করা নিয়ে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। তর্কাতর্কি থেকে আচমকাই হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।
অভিযোগ, বিবাদ চলাকালীন হঠাৎই সুরেন্দ্র বিশ্বকর্মা ও সুরজ বিশ্বকর্মা নামের দুই অভিযুক্ত হিংস্র হয়ে ওঠে। একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে তারা বিশ্বকর্মা পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীদের কোপে গুরুতর জখম হন ৪০ বছর বয়সী সুনীল বিশ্বকর্মা এবং তাঁর ১৪ বছরের ছেলে শ্লোক বিশ্বকর্মা। আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়। আক্রমণকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি সুনীলের স্ত্রী অঞ্জু বিশ্বকর্মা এবং ছোট ছেলে ভিভানও। বর্তমানে তাঁরাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরপরই পার্কসাইট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নামে। ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। ইতিমধ্যেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সুরেন্দ্র ও সুরজ নামে দুই যুবককে পুলিশ আটক করেছে। কী উদ্দেশ্যে এত বড় হামলা চালানো হলো, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও উত্তেজনার ছায়া নেমে এসেছে।