‘আর দুর্বল নয়, শক্ত হাতেই নতুন বাংলা গড়ার শপথ’: মিলন মেলায় শিল্পপতিদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

“বাংলা আর দুর্বল থাকবে না, ঘুরে দাঁড়াবেই।” মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্রশিল্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে এভাবেই নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের অর্থনৈতিক ও শিল্প কাঠামোর উন্নতির স্বার্থে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে, নাম না করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের আমলের নানা নীতির কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “অতীতে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে, এখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করতে হবে।”
🧵 বস্ত্রশিল্পে জোর ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আশ্বাস
সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্রশিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যকে স্বাবলম্বী করতে কেন্দ্রও পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বার্তার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার চা-বাগান এবং বস্ত্রশিল্প—এই দুই ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দিতে চায়। শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পের প্রয়োজনে নীতি বা আইন পরিবর্তন করতে হলেও রাজ্য সরকার পিছু হটবে না। শিল্পপতিদের প্রস্তাব সরাসরি মুখ্যসচিবের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
🤝 বহিরাগত বিতর্ক অতীত, জোর সার্বিক উন্নয়নে
ব্যবসার শৃঙ্খলা ও সংযোগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুরাটের উদাহরণ টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার সুরাট বলতেই ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে দিত। তবে বর্তমান সরকার এই ধরনের সংকীর্ণ নীতিতে বিশ্বাস করে না। বাংলায় মেধা, ভালো কারিগর এবং দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে—সবাইকে সাথে নিয়েই সরকার এগোবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
🛑 সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি বন্ধের কড়া বার্তা
রাজ্যে শিল্পায়নের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান:
- আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা: সিন্ডিকেট রাজ, গুন্ডামি, কাটমানি ও তোলাবাজি সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
- সহজ পরিকাঠামো: শিল্পপতিদের জন্য জমির ব্যবস্থা এবং দ্রুত ছাড়পত্রের জন্য ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’ চালু করা হবে।
- প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ: রাজ্য দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক প্রকল্পের সূচনা করেছেন এবং সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বাংলায় কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, অলসতা ঝেড়ে ফেলে এই সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করবে এবং বাংলাকে আবার উন্নয়নের নতুন শিখরে নিয়ে যাবে।