চেক বাউন্সের ধাক্কা! হুমায়ুন বিদায়, মহামেডানের নতুন সভাপতি গজল জাফর

একের পর এক চেক বাউন্স এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে অবশেষে ধৈর্য হারাল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবকে আর্থিক সঙ্কট থেকে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে সভাপতি পদে বসেছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু মাস তিনেক পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। তাই তাঁকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মহামেডানের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্লাবের প্রাক্তন সহ-সচিব গজল জাফর।
আজ, বৃহস্পতিবার ক্লাবের কর্মসমিতির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গজল জাফরকে স্থায়ী সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নতুন সভাপতিকে বরণ করে নিতে ক্লাব তাঁবুর সামনে ব্যান্ড বাজিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্যতম কর্তা ওয়াসিম আক্রম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন কমিটি আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে এবং দ্রুত ভারতীয় ফুটবলারদের প্রায় ৩ কোটি টাকার বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।
ক্লাব সূত্রের খবর, গত ১৭, ২০ এবং ৩০ জুলাই ক্লাবের ফান্ডে ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট তিনটি চেক দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু তিনটি চেকই বাউন্স করায় মারাত্মক সঙ্কটে পড়ে ক্লাব। ফিফার ট্রান্সফার ব্যানের কারণে এমনিতেই নতুন ফুটবলার সই করাতে পারছে না মহামেডান, তার ওপর নতুন করে বাউন্স হওয়া চেক ক্লাবের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎকে আরও বড় হুমকির মুখে ফেলে দেয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওয়াসিম আক্রম জানান, “গত ৬ জুন আর্থিক সঙ্কট মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং ১৩ কোটি টাকা ক্লাবে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সভাপতি পদ গ্রহণ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু ৩ মাস কেটে গেলেও তিনি এক টাকাও দিতে পারেননি, উল্টে একের পর এক তারিখ দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। চেক বাউন্স হওয়ার পরেই আমরা তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শীঘ্রই ফুটবলারদের বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”