“স্যর, উপহার পাঠাব!”— এক মেসেজেই চুরমার নিট কাণ্ডের ফাঁদ, ফাঁস মূল চক্রীর কীর্তি!
August 9, 20262:43 pm

“স্যর, আপনার ঠিকানাটা একটু জানাবেন? একটি ঘড়ি উপহার পাঠাব।”— অভিভাবকের পাঠানো এই একটি আপাতনিরীহ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজই বদলে দিল গোটা তদন্তের মোড়। এই সূত্র ধরেই NEET-UG প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের অন্যতম মূল হোতা, রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নির সন্ধান পায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। সম্প্রতি এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সিবিআই একটি ৯৪ পাতার চাঞ্চল্যকর চার্জশিট পেশ করেছে, যেখানে ধৃত ১৩ জন অভিযুক্তের কারসাজি ও প্রশ্নফাঁসের সম্পূর্ণ ব্লু-প্রিন্ট সামনে আনা হয়েছে।
চার্জশিটে উঠে আসা মূল তথ্যগুলি:
- উপহারের ফাঁদ ও নজরে অধ্যাপক: এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের ‘উপহার পাঠাব’ সংক্রান্ত গোপন বার্তাই প্রথম সন্দেহের বীজ বোনে। এরপরই অধ্যাপক কুলকার্নির ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেন তদন্তকারীরা।
- ‘MyGate’ অ্যাপ ও ‘Fifa world cup’ গ্রুপ: কুলকার্নির আবাসনে বহিরাগত পড়ুয়াদের আসা-যাওয়া নজর রাখতে আবাসনের সিকিউরিটি অ্যাপ ‘MyGate’-এর ডিজিটাল লগ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি ‘Fifa world cup’ নামের একটি সন্দেহজনক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য প্রমাণ ঘেঁটে প্রশ্ন কেনা পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে সিবিআই।
- প্রশ্ন চুরি ও ফাঁসের কৌশল: NTA-র সাবজেক্ট এক্সপার্ট হিসেবে রসায়নের প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক কুলকার্নি। গোপনীয়তা ভেঙে তিনি প্রশ্নগুলি মুখস্থ করে রাখতেন এবং পরে গোপন স্থানে তা কাগজে লিখে পাচার করতেন। সিবিআই কুলকার্নির হাতের লেখার সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পেয়েছে। এছাড়া, তাঁর মোবাইল থেকে পরীক্ষার আগেই ৯টি রসায়নের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
- ‘স্পেশাল ক্লাস’ ও টাকা তোলার খেলা: ২৫ এপ্রিল ‘Special Class’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেন কুলকার্নি। তথাকথিত এই বিশেষ ক্লাসের অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। কুলকার্নি ও তাঁর সহযোগী মনীষা ওয়াঘমারে এই লেনদেন পরিচালনা করতেন।
- পদার্থবিদ্যার প্রশ্নও বিক্রি ২৫ হাজার টাকায়: শুধু রসায়ন নয়, পদার্থবিদ্যার প্রশ্নফাঁসে নাম এসেছে আর এক শিক্ষিকা মনীষা হাওলদারের। NTA-র অনুবাদক হিসেবে কাজ করা মনীষা মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন ফাঁদে ফেলেন বলে অভিযোগ।
- রাজস্থান কানেকশন: রাজস্থানের সিকার ও ঝুনঝুনু এলাকা থেকেও উদ্ধার হয়েছে প্রশ্নপত্রের ছাপানো কপি। পরীক্ষার ঠিক চার দিন আগে একটি হুন্ডাই ভেরনা গাড়িতে করে ১১ সেট প্রশ্নপত্র পাচার করা হয়েছিল সেখানে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে প্রশ্নফাঁসের ব্যাপক জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পর বাতিল করা হয় পরীক্ষা এবং ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সিবিআই বর্তমানে এই চক্রের শিকড় আরও কত দূর ছড়ানো, তা খতিয়ে দেখছে।