“HIV আক্রান্ত ছোঁয়াচে নয়, অন্যায় বরদাস্ত নয়”— ঘাটাল কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপের বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মেদিনীপুর ও কলকাতা: এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত হওয়ার অপরাধে চাকরি হারানোর গুরুতর অভিযোগ তুললেন ঘাটাল সরকারি হাসপাতালের এক অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী। সুবিচারের আশায় তিনি নবান্ন ও স্বাস্থ্যভবনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সরাসরি হাসপাতালের সুপারের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি। যদিও রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছে?
অভিযোগকারী স্বাস্থ্যকর্মী জানান, তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ওই হাসপাতালে সাফাইকর্মী ও ওয়ার্ডে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। ২০০৭ সালে তিনি জানতে পারেন তিনি HIV আক্রান্ত, তবে চিকিৎসার পর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে কাজের জন্য সম্পূর্ণ ‘ফিট’ ঘোষণা করেন।
তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে রাজ্য সরকার অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের কিছু উচ্চপদস্থ আধিকারিক তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। গত জানুয়ারি মাস থেকে তাঁকে হাসপাতালে আসতে নিষেধ করা হয়। এমনকি ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে তাঁকে মাত্র ৬০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চাকরি হারিয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম অর্থসংকটে পড়েছেন তিনি।
হাসপাতাল সুপারের পাল্টা দাবি
অভিযোগ অস্বীকার করে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের সুপার মহেশ্বর মান্ডি জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির ১৯৯৬ সাল থেকে কাজের তথ্যটি সঠিক নয়; তিনি ২০১৬-১৭ সাল থেকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। সুপারের দাবি, হাসপাতালে আরও অনেক HIV আক্রান্ত কর্মী স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছেন, কাউকেই বারণ করা হয়নি। উনি নিজেই কাজে আসছেন না এবং এখন স্থায়ী কর্মী করার দাবি জানাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
ঘটনাটি সামনে আসতেই মুখ খুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান:
“HIV আক্রান্ত কাউকে স্পর্শ করলে বা জড়িয়ে ধরলে রোগ ছড়ায় না। এই ধরনের সামাজিক বয়কট বা বৈষম্য একেবারেই অন্যায় ও বরদাস্ত করা হবে না। ঘাটালে এমন ঘটনা সত্যি প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে স্বাস্থ্য ভবনের তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ।