“আমরা সবাই রাজা…”—ইডির তল্লাশির আবহেই কল্যাণেশ্বরীতে পুজো দিয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র!

রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে মাইথনের বিখ্যাত সিদ্ধপীঠ কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। গলায় জবার মালা ও কপালে লাল তিলক কেটে মা কল্যাণেশ্বরীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজ্যের সার্বিক শান্তির পাশাপাশি ‘তরুণ মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের স্থায়িত্ব ও শক্তির জন্য প্রার্থনা জানান তিনি।
মূল ঘটনাক্রম: তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। এই আবহে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
পুজো শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন:
“চারিদিকে অশান্তি ও গণ্ডগোল সাধারণ মানুষ একদম পছন্দ করছে না। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা—শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারকে যেন তিনি সঠিক পথ দেখানোর শক্তি দেন।”
‘রাজধর্ম’ ও বিরোধী দলের গুরুত্ব: এদিন গণতন্ত্র ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মদন মিত্র শুভেন্দু অধিকারীকে ‘রাজধর্ম’ পালনের পরামর্শ দেন। তিনি জানান, মন্দিরে যেমন ভক্ত না থাকলে পুজোর কোনো অর্থ থাকে না, ঠিক তেমনই গণতন্ত্রে বিরোধীদের বক্তব্য ও সমালোচনা না শুনলে শাসন ব্যবস্থা আসাম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর আশা, মা কল্যাণেশ্বরীর কৃপায় আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই রাজ্যে সার্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথের সুর টেনে তিনি অনুরোধ করেন, “রাজা সবারে দেয় মান, সে মান আপনি ফিরে পান।” তিনি চান রাজ্যে যেন সবাই মিলে ‘আমরা সবাই রাজা’ গানটি গাইতে পারে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি ইডির আতশিকাঁচের নিচে রয়েছেন মদন মিত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন কামারহাটির এই জ্যেষ্ঠ বিধায়ক। সংকটকালে নতুন সরকারের প্রতি তাঁর এই সমর্থন প্রকাশ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।