কলম্বিয়া জুড়ে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প: ৭.৪ মাত্রার ধাক্কায় ধূলিসাৎ জনপদ, মৃত বেড়ে ১৩২!

ভয়াবহ ও প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গেল পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। ৭.৪ মাত্রার তীব্র ভূকম্পনে পুরো দেশ মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ১৩২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে একাধিক বহুতল ও আবাসন। এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ ইট-পাথরের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয় ও আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উন্মাদের মতো ছুটছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে ‘চোকো’ অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায় ছিল এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল। মাটি থেকে ১০৭ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই কম্পন এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, তা প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডরেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
বিপর্যয়ের সবচেয়ে করুণ ছবি উঠে এসেছে পেরেইরা শহর থেকে। শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানান, শুধুমাত্র পেরেইরাতেই অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুরো শহরের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটময়। সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে কালি, কিবদো ও পেরেইরা শহরে চোখের সামনে একের পর এক বাড়ি ধসে পড়ছে। অন্যদিকে, মানিজালেস শহরের বিখ্যাত ঐতিহাসিক নিও-গোথিক ক্যাথেড্রালের একটি বিশালাকার টাওয়ারও ধসে পড়েছে।
কলম্বিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে ছোটখাটো ভূকম্পন স্বাভাবিক হলেও ৬.০-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প বেশ বিরল। অতীতে আর্মেনিয়া শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এদিনের বিপর্যয়ে দেশটির সড়ক ও আকাশপথ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাবেঞ্চুরা— এই ৬টি শহরের বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উড়ান পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বিপর্যয়ের পরপরই উদ্ধারকাজের তদারকিতে নেমেছেন কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনেরা কেউ একা নন, পুরো দেশ আপনাদের পাশে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”