“পুলিশ কি অন্য উদ্দেশ্যে অনুমতি দেয়নি?” রাজাবাজার মিছিল কাণ্ডে হাইকোর্টের নজিরবিহীন ভর্ৎসনা!

“পুলিশ কি অন্য উদ্দেশ্যে অনুমতি দেয়নি?” রাজাবাজার মিছিল কাণ্ডে হাইকোর্টের নজিরবিহীন ভর্ৎসনা!

ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক খুলে ফেলার সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হওয়ার পাশাপাশি রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি দিল আদালত। সোমবার এই মামলার শুনানিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের একক বেঞ্চ কড়া শর্তসাপেক্ষে আজকের (১১ আগস্ট) মিছিলের অনুমতি দিয়েছে।

আদালতের কড়া ভর্ৎসনা ও প্রশ্নবাণ

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতি ও মনভাবের কড়া সমালোচনা করেন। গত ৩ আগস্ট আবেদনের পর কেন ৭ আগস্ট শুক্রবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পুলিশ আবেদন নাকচ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিচারপতি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “পুলিশ কি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই অনুমতি আটকালো? প্রশাসনের পক্ষে এত দেরিতে সিদ্ধান্ত জানানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ মিত্র নাথ যুক্তি দেন যে, সপ্তাহের কাজের দিনে জনবহুল রাস্তায় এই ধরনের মিছিল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এর জবাবে মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, পুলিশ চাইলে আগেই শর্ত আরোপ বা বিকল্প পথের প্রস্তাব দিতে পারত, শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল করা অনভিপ্রেত।

মিছিলের জন্য হাইকোর্টের ৩টি কড়া শর্ত:

  • নির্দিষ্ট সময়সীমা: সকাল ১১:৩০টা থেকে শুরু করে ঠিক ১ ঘণ্টার মধ্যে পুরো মিছিল শেষ করতে হবে।
  • সীমিত উপস্থিতি: মিছিলে সর্বোচ্চ ৭৫০ জন অংশ নিতে পারবেন।
  • শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: মিছিলে কোনো ধরনের মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।

আইনি লড়াইয়ের জল গড়াচ্ছে বহুদূর

উল্লেখ্য, জমিয়ত-ই-উলেমার একটি সংগঠন এই মিছিলের ডাক দেয়। তবে শুধু এই একক বেঞ্চের মামলা নয়, সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী দানিশ ফারুকী হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, একই ইস্যুতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে মাইক বিতর্ক এখন আক্ষরিক অর্থেই আদালত কক্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *