গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণার দাবি! অমিত শাহকে ৬ দফার বিশেষ চিঠি মথুরাপুরের সাংসদের
August 11, 20268:11 pm

গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি-সহ সুন্দরবনের সামগ্রিক উন্নয়নে ৬ দফা দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্মারকলিপি দিলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার।
মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্র তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী এলাকার যোগাযোগ, পর্যটন এবং আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চার পাতার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সাংসদ বাপি হালদার। সেখানে এলাকার ৬টি প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে:
- ১. গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা: মকর সংক্রান্তির এই ঐতিহাসিক মেলা দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ। রাজ্য সরকারের প্রস্তাব কার্যকর করতে এবং মেলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও অবকাঠামোর প্রসারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাংসদ।
- ২. বাঁধ নির্মাণ ও উপকূল রক্ষা: ক্রমাগত সমুদ্রের ভাঙনে গঙ্গাসাগর মন্দির ও আশপাশের এলাকা বিপন্ন। পাশাপাশি ঘোড়ামারা, মৌসুনি ও গোবর্ধনপুর দ্বীপে বারবার বাঁধ ভেঙে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- ৩. হাতুগঞ্জ-রায়দিঘি সড়ককে জাতীয় সড়কে উন্নীতকরণ: প্রায় ৪০-৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়কটিকে জাতীয় সড়কের মর্যাদা দিয়ে সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে সুন্দরবনের কৃষি, মৎস্যচাষ ও পর্যটন শিল্প উপকৃত হয়।
- ৪. জয়নগর-রায়দিঘি নতুন রেল যোগাযোগ: দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত রেল পরিকাঠামো না থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। জয়নগর থেকে রায়দিঘি পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ বা বিকল্প রেল-সংযোগের সমীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
- ৫. লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা রেললাইন ডবল করা: শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর পর্যন্ত ডবল লাইন থাকলেও নামখানা অংশটি এখনও সিঙ্গল লাইন। গঙ্গাসাগর ও বকখালিগামী পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ভিড় সামলাতে এবং ট্রেনের গতি বাড়াতে এই অংশটি ডবল লাইন করা জরুরি।
- ৬. নিশ্চিন্তপুর মার্কেট হল্ট স্টেশনের আধুনিকীকরণ: ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় এনে এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বৃদ্ধি, যাত্রী প্রতীক্ষালয়, শৌচাগার, পানীয় জল এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলার আবেদন করা হয়েছে।
সাংসদ বাপি হালদারের আশা, এই ৬টি দাবি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতি এক নতুন রূপ পাবে।