আসামের বন্যায় পাশে শুভেন্দু! বিধায়কদের ভাতা বৃদ্ধি ও ‘নেতাজি-শর্তে’ বিশেষ অনুদানের ঘোষণা

আসামের বন্যায় পাশে শুভেন্দু! বিধায়কদের ভাতা বৃদ্ধি ও ‘নেতাজি-শর্তে’ বিশেষ অনুদানের ঘোষণা

রাজ্য বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে একাধিক জনকল্যাণমুখী ও নজরকাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিবেশী রাজ্য আসামের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন তিনি।

১. বন্যাপীড়িত আসামের পাশে বাংলা: ১০ কোটির আর্থিক সাহায্য

আসামের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এবং শতাধিক মানুষের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে বহু বাঙালি চরম বিপদের মুখে পড়েছেন। এই কঠিন সময়ে আসামে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি। বিধানসভার অনুমোদন নিয়ে এই অর্থ দ্রুত আসামের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হচ্ছে।

২. প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা একলাফে বাড়ল ১০ হাজার

প্রাক্তন সৎ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের সাধারণ জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় কদম ফেলল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাক্তন বিধায়কদের বর্তমান চিকিৎসা ভাতা মাসে ৬,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা করা হয়েছে। চলতি অগস্ট মাস থেকেই এরিয়ার-সহ এই বর্ধিত ভাতা পাবেন তাঁরা।

৩. বিধায়কদের কার্যালয় পরিচালনার অনুদান ও কড়া ‘নেতাজি-শর্ত’

সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা এবং জনসংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে নিজস্ব কার্যালয় খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কার্যালয় পরিচালনার খরচ চালাতে প্রতি মাসে প্রতিটি বিধায়ককে ৩০,০০০ টাকা করে সরকারি আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

তবে এই অনুদান পেতে দুটি কড়া শর্ত বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী:

  • সেবাকেন্দ্রের নাম বাধ্যতামূলকভাবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র’ রাখতে হবে।
  • তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে সরবরাহ করা ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি কার্যালয়ে টাঙানো বাধ্যতামূলক।

বিশেষ বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই শর্ত মানলেই কেবল সরকারি অনুদান মিলবে, অন্যথায় নয়। বিধানসভার অধ্যক্ষকে পুরো বিষয়টি নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

৪. স্বাধীনতা দিবস ও রাখিবন্ধনে বর্ণাঢ্য উদযাপনের ডাক

আসন্ন স্বাধীনতা দিবস এবং রাখিবন্ধন উৎসব পালনের রূপরেখা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে বিধায়ক ও সাংসদদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। যুব কল্যাণ, ক্রীড়া এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের যৌথ উদ্যোগে এবার রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত সাড়ম্বরে পালিত হবে রাখিবন্ধন উৎসব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *