হিটস্ট্রোক ও বজ্রপাতে প্রাণ হারালে পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ! কেন্দ্রের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

হিটস্ট্রোক ও বজ্রপাতে প্রাণ হারালে পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ! কেন্দ্রের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে মূলত বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্পের মতো ঘটনাকে বোঝানো হলেও, এবার পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। তীব্র তাপপ্রবাহ (‘Heat Wave’) এবং বজ্রপাতকে এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেকর্ড ভাঙা গরম এবং ঘন ঘন বজ্রপাতের কারণে দেশজুড়ে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যেই হিটস্ট্রোকে অন্তত ২০ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ৫,০০০ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া, দেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,২৫০ জন প্রাণ হারান, যার প্রায় ৯৬ শতাংশই ঘটে গ্রামীণ অঞ্চলে। দীর্ঘদিনের দাবির পর জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র।

নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন ও সুবিধা মিলবে?

  • সরাসরি আর্থিক সাহায্য: এতদিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে তাপপ্রবাহ বা বজ্রপাত জাতীয় বিপর্যয়ের তালিকায় ছিল না। ফলে রাজ্যগুলোকে নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত অর্থ খরচ করতে হতো।
  • SDRF ও NDRF-এর ব্যবহার: নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য সরকারগুলি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৫-এর অধীনে স্টেট ডিসাস্টার রেসপন্স ফান্ড (SDRF) সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারবে।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অর্থ: রাজ্য তহবিল অপ্রতুল হলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল (NDRF) থেকে অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি পাওয়া যাবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণ প্রদানে মূল ভূমিকা রাখবে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ:

  • তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে: রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও উত্তর কর্নাটক (যেখানে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলে)।
  • বজ্রপাতের ঝুঁকিতে: পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে প্রাণঘাতী আবহাওয়া ও দুর্যোগের মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনগুলো অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকর আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *