ফ্ল্যাটের আড়ালে পর্ন অ্যাপের কারবার! পোশাক খুললেই মিলত টাকা, ভদোদরায় গ্রেফতার দশম পাশ যুবক

ভদোদরা: বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না। আর দশটা সাধারণ ফ্ল্যাটের মতোই শান্ত পরিবেশ। কিন্তু দরজা খুলতেই পুলিশের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! সাধারণ এক আবাসনের ভেতরেই রমরমিয়ে চলছিল অ্যাপ-ভিত্তিক নগ্ন ভিডিও শুটের কারবার। গুজরাটের ভদোদরার মঞ্জলপুর এলাকার ‘প্রকৃতি আবাসন’-এ হানা দিয়ে এই চক্রের মূল পাণ্ডাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম মণীশ পাধিয়ার।
পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র দশম শ্রেণি পাশ মণীশ আগে একটি কল সেন্টার চালাত। সেখান থেকেই অপরাধ জগতে তার হাতেখড়ি। ভদোদরায় প্রায় ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনে সে। সেখান থেকেই চলছিল পুরো নেটওয়ার্ক। ‘স্ট্রিপচ্যাট’ (Stripchat) নামক একটি প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে এই অশালীন কারবার চালানো হতো। সেখানে তরুণীদের দিয়ে নগ্ন দৃশ্য শুট করানো এবং কাস্টমারদের চাহিদা অনুযায়ী আপত্তিকর কার্যকলাপে লিপ্ত করানো হতো।
কীভাবে চলত এই পর্ন চক্র?
- রিচার্জ ও কয়েন ব্যবস্থা: কাস্টমারদের প্রথমে অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা দিয়ে রিচার্জ করতে হতো। রিচার্জের বদলে মিলত ভার্চুয়াল ‘কয়েন’।
- ভিডিও কলের নিয়ম: কয়েন খরচ করে তরুণীদের সঙ্গে সরাসরি পর্ন ভিডিও কল করা যেত। কল যত দীর্ঘ হতো, তত বেশি কয়েন খরচ হতো।
- টাকার ৫০-৫০ ভাগ: উপার্জিত অর্থ সরাসরি মণীশের অ্যাকাউন্টে আসত। সেই আয়ের ৫০ শতাংশ মণীশ নিজে রাখত এবং বাকি ৫০ শতাংশ যুক্ত থাকা তরুণীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো।
গত ১১ অগাস্ট গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঞ্জলপুর থানা পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন যুবতীকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজে নামানো হয়েছিল।
এসিপি বিমল গামিত জানিয়েছেন, “এই পুরো চক্রটির সঙ্গে কতজন তরুণী এবং অন্যান্য ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভিডিও কলের আড়ালে কোনো ব্ল্যাকমেলিং বা বড় কোনো আর্থিক প্রতারণা চালানো হতো কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।”