‘নেতাজি অপমান সহ্যের অতীত’, কড়া অ্যাকশনে কাড়া হলো অনন্ত মহারাজের রাজ্য সম্মান

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত ও অপমানজনক মন্তব্য করার জেরে চরম শাস্তির মুখে পড়লেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার ও বাতিল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্ন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
ঘটনার পটভূমি ও কড়া পদক্ষেপ: সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘দেশদ্রোহী’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে মন্তব্য করেন অনন্ত মহারাজ। এর পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজ ও তৎকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে নানাবিধ আপত্তিকর দাবি করেন তিনি। একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেও তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি; বরং নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তিসাজানোর চেষ্টা করেন।
অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিজেপির অন্দরেও তৈরি হয় অসন্তোষ। গত বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতাজিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য বা পোস্ট বরদাস্ত করা হবে না। দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সরকারি নির্দেশিকা ও সিদ্ধান্ত: মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান বাতিল করা হলো।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—
- বিশিষ্ট অবদানের জন্য এই সম্মান দেওয়া হলেও সম্প্রতি এমন কিছু গুরুতর বিষয় সরকারের নজরে এসেছে, যা এই সম্মানের মর্যাদা ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
- সমস্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখার পরেই এই সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- আজ থেকে অনন্ত মহারাজ আর নিজেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না এবং এর থেকে প্রাপ্ত কোনো সুবিধা বা অধিকার তিনি পাবেন না।
- সরকারি নথি ও প্রাপকদের তালিকা থেকে তাঁর নাম অবিলম্বে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।