সাফল্যের গল্প: অদম্য জেদেই বাজিমাত! বাংলার অখ্যাত গ্রামের এই তরুণের অনন্য বিজয়-কাহিনী রূপকথাকেও হার মানাবে

সাফল্যের গল্প: অদম্য জেদেই বাজিমাত! বাংলার অখ্যাত গ্রামের এই তরুণের অনন্য বিজয়-কাহিনী রূপকথাকেও হার মানাবে

সমস্ত প্রতিকূলতা ও প্রথাগত কোচিং ছাড়াই দেশের অন্যতম কঠিন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করলেন উত্তরবঙ্গের এক যুবক। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) পরিচালিত ‘Central Armed Police Forces (Assistant Commandants) Examination, 2025’ বা CAPF (AC) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ১৫০তম স্থান দখল করে গোটা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন কোচবিহারের মাথাভাঙা ব্লকের ডাকালিরহাটের বাসিন্দা জয়দীপ সরকার।

একটি প্রান্তিক গ্রামীণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে সর্বভারতীয় মেধা তালিকায় এত ওপরের দিকে স্থান করে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুধু মাথাভাঙা বা ডাকালিরহাট নয়, আনন্দের জোয়ার বইছে সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে।

অধ্যবসায় ও একনিষ্ঠতার জয়গাথা

ছোট শহর বা বড় কোনো মেট্রো সিটির উচ্চমানের কোচিং প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ছাড়া, শুধুমাত্র অদম্য জেদ আর নিয়মিত অধ্যবসায়কে সম্বল করেই এই সাফল্য পেয়েছেন জয়দীপ। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী এই যুবকের মূল স্বপ্নই ছিল দেশের সুরক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করা।

UPSC-র মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কঠিন লিখিত পর্ব, শারীরিক পরীক্ষা (PET/PST) এবং ব্যক্তিত্ব যাচাই বা ইন্টারভিউয়ের মতো প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পার করেছেন তিনি। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করেছে যে, বড় শহরের দামি কোচিং সেন্টারের চেয়েও সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আত্মবিশ্বাসই যেকোনো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

এলাকা জুড়ে উৎসবের আবহাওয়া

ডাকালিরহাটের মতো সাধারণ একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদে উন্নীত হওয়ায় জয়দীপের পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রতিবেশীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনরাত এক করে প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন জয়দীপ, এবং সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল আজ পুরো এলাকাকে গর্বিত করেছে।

পরবর্তী প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে জয়দীপের বার্তা, “নিজের লক্ষ্য স্থির রেখে নিয়মিত পড়াশোনা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গেলে যেকোনো কঠিনতম পরীক্ষা জয় করা সম্ভব।”

কোচবিহার তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়া এলাকার তরুণ-তরুণীদের জন্য জয়দীপ সরকারের এই ঐতিহাসিক সাফল্য আগামী দিনে সিভিল সার্ভিস ও কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে বিরাট অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *