নেতাজি কি সত্যিই ‘যুদ্ধাপরাধী’? অনন্তর বিতর্কের মাঝে নেহরুর চিঠির আসল সত্য প্রকাশ
August 13, 20269:05 pm

রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ ও কোচবিহারের রাজপরিবারের সদস্য অনন্ত মহারাজের নেতাজি-বিরোধী মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর জের ধরে তাঁর ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে যেকোনো আপত্তিকর মন্তব্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে রাজ্য।
এই বিতর্কের আবহে প্রশ্ন উঠেছে—নেতাজিকে কি সত্যিই পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ‘যুদ্ধাপরাধী’ (War Criminal) বলেছিলেন?
ঐতিহাসিক গবেষক সৈকত নিয়োগী ও সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
- নেহরুর চিঠির সত্যতা: খোসলা কমিশনের শুনানিতে নেহরুর স্টেনোগ্রাফার শ্যামলাল জৈন জানিয়েছিলেন, তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট এটলিকে পাঠানোর জন্য একটি চিঠির খসড়া করা হয়েছিল, যেখানে নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে উল্লেখ করার কথা ছিল। তবে ইতিহাস সাক্ষী, সেই চিঠি শেষ পর্যন্ত কখনোই পাঠানো হয়নি। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় চিঠির সেই খসড়া অংশটিকেই ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
- সরকারি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: ২০০২-০৩ সালে সংসদে সাংসদ শশী থারুরের এক প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়েছিল যে, ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে নেতাজির নাম কোথাও তালিকাভুক্ত নেই। তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অক্ষশক্তির মানবতাবিরোধী নেতাদের যে তালিকা তৈরি হয়, তাতেও নেতাজির নাম ছিল না।
- অনন্ত মহারাজের ইতিহাস বিকৃতি: গবেষক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত প্রশ্ন তোলেন যে, যে কোচবিহার রাজপরিবার ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিল, অনন্ত মহারাজ কি তাদের কথাই বলছেন? নেতাজির ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ কোচবিহারকে রাজতন্ত্রমুক্ত করতে লড়াই করেছিল। ইতিহাস বিকৃত করে এবং চীনের উসকানিতে উত্তরবঙ্গকে ভাগ করার চক্রান্তের অংশ হিসেবেই মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।