ঐতিহাসিক সাফল্য! লাগোসে ৩৫টি পদক জিতে প্রথমবার ‘উইলকিনসন সোর্ড ট্রফি’ ভারতের দখলে

লাগোস (নাইজেরিয়া): আন্তর্জাতিক ফেন্সিং ট্র্যাকে ইতিহাস গড়ে সেরা ট্রফি নিজেদের নামে করল ভারত। নাইজেরিয়ার লাগোসে আয়োজিত ‘কমনওয়েলথ ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ অভূতপূর্ব পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথমবার খেতাব জিতল ভারতীয় দল। চার দিনব্যাপী এই মেগা প্রতিযোগিতায় ভারতের ঝুলিতে এসেছে মোট ৩৫টি পদক, যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ৮টি রুপো এবং ১৪টি ব্রোঞ্জ। সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘উইলকিনসন সোর্ড ট্রফি’ জিতে নিয়েছে ভারত। ১৯৮২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ট্রফি জয়ে ফেন্সিং জগতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হলো।
প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ভারতীয় অ্যাথলিটদের দাপট ছিল দেখার মতো। ৬টি টিম ইভেন্টের মধ্যে ৫টিতেই সোনা জিতেছে ভারত—
- সোনা: পুরুষদের সাব্রে, মহিলাদের সাব্রে, পুরুষদের এপি, মহিলাদের এপি এবং মহিলাদের ফয়েল।
- রুপো: পুরুষদের ফয়েল।
সাফল্যের শুরু থেকেই ভারতীয় আধিপত্য:
টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই ভারতীয় ফেন্সাররা প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেননি।
- প্রথম দিন (U-23): অনূর্ধ্ব-২৩ ইভেন্টে ১৭টি পদক (৪টি সোনা, ৪টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ) আসে। নিখিল ওয়াঘের নেতৃত্বে পুরুষদের সাব্রে ইভেন্টে পোডিয়ামের সবকটি স্থানই দখল করে ভারত। এ ছাড়া জয়শ অশিতা, প্রাচী লোহান ও জেফারলিন ব্যক্তিগত সোনা জেতেন।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন (সিনিয়র ইভেন্ট): সিনিয়র ব্যক্তিগত বিভাগে তানিষ্কা খাতরি, কানাগলক্ষ্মী, রাজেন্দ্রন শান্তিমোল শেরজিন এবং সিং করণ সিং দুর্দান্ত লড়াই করে ভারতের সোনার সংখ্যা বাড়ান।
কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের অবদান:
খেলোয়াড়দের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে বড় অবদান রয়েছে কোচ ভারতজি ঠাকোর, শ্রীহরি পিসে, শঙ্কর নারায়ণন, ফিজিওথেরাপিস্ট অমৃতা বালকাওয়াড়ে এবং টিম ম্যানেজার মনু ত্যাগীর। তাঁদের সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শারীরিক সুরক্ষার কারণেই অ্যাথলিটরা নিজেদের সেরাটা দিতে পেরেছেন।
এই জয়ের পর ‘ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র নজর এখন বিশ্বমঞ্চে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফেন্সিং শক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।