২ দিনে রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আর তাতেই নেপালে প্রলয়ঙ্করি বিপর্যয়: কাঠগড়ায় বিশ্ব উষ্ণায়ন
হিমালয়ের বুকে ভয়াবহ হড়পা বানের নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের হাত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে পার্বত্য এলাকায় কার্যত সুনামির মতো প্রলয় নেমে আসে। প্রাথমিক অবস্থায় একে ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও, উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট ধরা পড়ে যে এটি ছিল মূলত একটি বিশাল হিমবাহ ধস। US Geological Survey জানিয়েছে, বরফ, কাদা ও পাথরের এই শক্তিশালী স্রোতের আঘাতেই রিখটার স্কেলে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল।
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে একটি বিশালাকার হিমবাহ ভেঙে পড়ে। সেই সাথে নেমে আসা বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত আছড়ে পড়ে নীচের ভোটকোশি বা ত্রিশূলি নদীতে। আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা ICIMOD-এর মতে, মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে নদীর জলস্তর ৭ থেকে ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা নিমেষেই ভেসে নিয়ে যায় জনবসতি।
উষ্ণায়নের বলি ভঙ্গুর হিমালয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ এবং পার্মাফ্রস্ট বিপজ্জনকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভের বিজ্ঞানী ড. হামিশ প্রিটচার্ড জানান, বিপর্যয় ঘটার ঠিক দু’দিন আগে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। বরফ গলে পাথরের ফাঁকে জল ঢুকে বাঁধুনি আলগা হয়ে যাওয়ার ফলেই এই মারাত্মক ধস নামেন।
- *হিমালয় অঞ্চল বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।
- *জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে নেপালের পাহাড়গুলো তাদের এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে।
- *ICIMOD-এর ‘HKH Glacier Outlook 2026’ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০০০ সালের পর থেকে দ্রুত গতিতে হিমবাহের আয়তন কমছে, যা আর পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
ভবিষ্যতের বড় বিপদ: হিমবাহ হ্রদ বা GLOF শুধু হিমবাহ ধসই নয়, হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া পাহাড়ি হ্রদগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘Glacial Lake Outburst Flood’ (GLOF) বলা হয়। নেপালে এমন দুই হাজারের বেশি হ্রদের মধ্যে অন্তত ২১টিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রতিনিয়ত উষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো প্রাকৃতিক মহাপ্রলয় অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশবিদেরা।