হিমাচলে প্রকৃতির তাণ্ডব: ৬৪ দিনে ২৫৯ প্রাণহানি, স্তব্ধ ১৫০ সড়ক, ক্ষতি ১২০০ কোটি!

কলকাতা: নেপালের দুর্যোগের আবহেই এবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশের বর্ষা পরিস্থিতি। ‘স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’ (SEOC)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৬৪ দিনে অতিবৃষ্টি, ধস এবং সড়ক দুর্ঘটনায় রাজ্যটিতে ২৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পরিকাঠামোর অন্তত ১,২০২.৬৪ কোটি টাকার বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের কারণে রাজ্যের জনজীবন পুরোপুরি স্তব্ধ। প্রায় ১৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে মান্ডিতে ৭৮টি এবং শিমলায় ৩০টি রাস্তা অবরুদ্ধ। গণপূর্ত বিভাগের (PWD) ৯১৪ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে এবং বারবার ধস নামায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। মান্ডি, শিমলা ও কুল্লুসহ বিভিন্ন জেলায় ৩৭৪টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে। জল শক্তি বিভাগের ২৫৮ কোটি টাকার ক্ষতির পাশাপাশি হামিরপুর ও শিমলায় ৪০টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ হয়ে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।
৩০ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সরাসরি প্রভাবে (ধসে ১৮ জন, জলে ডুবে ১৩ জন ইত্যাদি) এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৫৩ জন।
এদিকে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশেও। দেরাদুনে তমসা নদীর জল বেড়ে প্লাবিত হয়েছে ঐতিহাসিক তপকেশ্বর মহাদেব মন্দির প্রাঙ্গণ। গঙ্গা ও যমুনার জলস্তর বাড়ায় প্রয়াগরাজ ও বারানসীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেরাদুনে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে জারি করা হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’। এছাড়া ঝাড়খণ্ডেও হড়পা বানের আগাম সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।