উচ্ছেদ ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে কড়া কলকাতা পুলিশ: অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লালবাজারের ৬ দফার বিশেষ নির্দেশিকা

কলকাতায় উচ্ছেদ অভিযান, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা বা ভবন সিল করার সময়ে ঘটে যাওয়া আইনশৃঙ্খলাজনিত গোলমাল এড়াতে আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুরসভার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় বজায় রেখে পুলিশি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে এই বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
বুধবার লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, কোনো এলাকাতেই আচমকা বা হঠাৎ করে উচ্ছেদ বা সিল করার কাজ চালানো যাবে না। পূর্বপরিকল্পনা, পর্যাপ্ত পুলিশ বল মোতায়েন এবং পুরসভার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
নির্দেশিকার ৬টি প্রধান দিক:
- আগাম তথ্য ও প্রস্তুতি: উচ্ছেদ বা ভাঙার কাজে ঠিক কত পরিমাণ পুলিশ বল প্রয়োজন, তা থানা ও ডিসি দফতরকে আগে থেকেই স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
- দ্রুত পদক্ষেপ: ঘটনাস্থলে সময় নষ্ট না করে কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ভিড় বা বিরোধিতা দানা বাঁধতে না পারে।
- পুর-পুলিশ সমন্বয়: দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ও পুর আধিকারিকদের নিজ নিজ আইনি পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
- পর্যাপ্ত পুলিশ বল: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত পুলিশকর্মী তৈরি রাখতে হবে।
- স্পর্শকাতর এলাকায় আগাম বৈঠক: বিতর্কিত বা সংবেদনশীল স্থানে অভিযানের পূর্বে পুলিশ ও পুরসভার যৌথ বৈঠক করা বাধ্যতামূলক।
- সিল করার আইনি প্রস্তুতি: ভবন বা এলাকা সিল করার আগে যাবতীয় আইনি নথি এবং প্রাথমিক কাগজপত্র আগে থেকেই সম্পূর্ণ করে রাখতে হবে।
অভিযান চলাকালীন যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক ও স্থানীয় থানার ওসিদের নেতৃত্বে টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মহিলা পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিমও (QRT) প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের মূল লক্ষ্য—আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সম্পন্ন করা।