অযোধ্যার পর এবার ব্রজধাম! ১০৫১ কোটির মেগা মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে মথুরা-বৃন্দাবন

অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের পর যেভাবে পর্যটন ও রিয়েল এস্টেট খাতে অভূতপূর্ব জোয়ার এসেছে, ঠিক সেই একই মডেলে এবার সেজে উঠছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র লীলাভূমি মথুরা ও বৃন্দাবন। কাশী ও অযোধ্যার আদলে এই অঞ্চলকে বিশ্বমানের করে তুলতে উত্তরপ্রদেশের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার ১,০৫১ কোটি টাকার এক বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনার সূচনা করেছে। জন্মাষ্টমীর শুভ লগ্নে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমিতে পুজো দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ব্রজ অঞ্চলের জন্য এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
‘মথুরা ২.০’ মাস্টারপ্ল্যান: প্রধান আকর্ষণসমূহ
রাজ্য সরকারের এই মাস্টারপ্ল্যানে মোট ২২৯টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২টি প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং বাকি ৪৩৭ কোটি টাকার ১৬৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। মূল উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলি হলো:
- ৪-লেনের হাইওয়ে: যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে সরাসরি বৃন্দাবনকে যুক্ত করতে ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪-লেনের নতুন সংযোগকারী পথ তৈরি হচ্ছে। এটি চালু হলে তীর্থযাত্রীদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হবে না।
- যমুনায় নতুন সেতু ও ফ্লাইওভার: ট্রাফিক সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটাতে ৪৪ কোটি টাকায় একটি নতুন ফ্লাইওভার এবং যমুনা নদীর ওপর একটি ২-লেনের সেতু নির্মিত হচ্ছে।
- ১২ তলা অত্যাধুনিক পর্যটক হোস্টেল: জন্মাষ্টমী, হোলি কিংবা রাধাষ্টমীর মতো জনবহুল উৎসবগুলিতে পুণ্যার্থীদের আবাসন সমস্যা মেটাতে ৪৭ কোটি টাকা খরচে পুলিশ লাইন্স চত্বরে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ তলার এই হোস্টেল।
- ছাতিকারা রোডের সৌন্দর্য্যায়ন: এনএইচ-১৯ থেকে বৃন্দাবনে ঢোকার অন্যতম প্রধান পথ ছাতিকারা রোডকে ৩৫ কোটি টাকায় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের তার, সুদৃশ্য ফুটপাত ও ল্যান্ডস্কেপিং দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
- স্মার্ট নাগরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: পুরকর্মীদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও তীর্থযাত্রীদের সহায়তায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ৩১ কোটি টাকায় এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হচ্ছে।
- ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: আগামী দিনে বৃন্দাবনে ক্যাবল কার বা রোপওয়ে, ৪২০ একরজুড়ে এশিয়ার বৃহত্তম ‘সুরভি বন’ (সিটি ফরেস্ট), সুসংহত পার্কিং এবং ‘সুরদাস ব্রজভাষা একাডেমি’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
রাজনীতি ও রিয়েল এস্টেটে নতুন সমীকরণ
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যোগী আদিত্যনাথের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির দীর্ঘদিনের স্লোগান “অযোধ্যা তো স্রেফ ট্রেলার, কাশী-মথুরা এখনও বাকি”—সেই রাজনৈতিক বার্তাকে বাস্তব রূপ দিতেই এই মাস্টারপ্ল্যান।
তবে রাজনৈতিক চালচিত্রের বাইরেও এই প্রকল্প ব্রজ অঞ্চলের আবাসন খাত ও রিয়েল এস্টেট বাজারে বড় পরিবর্তন আনছে। এক্সপ্রেসওয়ের সুবাদে দিল্লি, নয়ডা বা গ্রেটার নয়ডা থেকে এখন মাত্র ২ ঘণ্টায় মথুরা-বৃন্দাবনে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে বড় বিনিয়োগকারীরা এখানে ‘সেকেন্ড হোম’, রিসোর্ট, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট এবং হোটেল তৈরিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক পরিকাঠামোর এই মেলবন্ধন বৃন্দাবনকে কেবল একটি তীর্থক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছে।