মুর্শিদাবাদে নজিরবিহীন সমীকরণ: সিপিএমের সমর্থনে পঞ্চায়েত সমিতি দখল এনসিপিআই-এর

মুর্শিদাবাদের রাণীনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়েছে রাজনীতির পারদ। সিপিআইএম (CPIM) সদস্যদের সমর্থনে এই পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিল তৃণমূলত্যাগী নেতাদের নিয়ে গঠিত সংগঠন এনসিপিআই (NCPI)। বুধবার ভোটাভুটির পর তানিয়া পারভীন নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে আসা সদস্যদের বামপন্থীরা সমর্থন করতেই তাদের নীতি ও আদর্শ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
ভোটের সমীকরণ ও আইনি বিতর্ক ২৭ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েত সমিতিতে বর্তমানে কার্যকরী সদস্য ২৬ জন (একজনের পদ খারিজ হয়েছে)। কংগ্রেসের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জেলবন্দী দুই সদস্যকে পুলিশ ভোটাভুটিতে অংশ নিতে দেয়নি। নির্বাচনে এনসিপিআই-এর ৯ জন এবং সিপিএমের ৫ জন সদস্যের মোট ১৪টি ভোট পেয়ে সভাপতি পদে জয়ী হন তানিয়া পারভীন। আশ্চর্যজনকভাবে তানিয়া পারভীনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন সিপিএমের সদস্য মুস্তাকিম আলম। প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী অসীমা মন্ডল ১০টি ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
পটভূমি গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাণীনগর-২ সমিতিতে ৯টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। সে সময় সিপিএমের ৫ সদস্যের সমর্থনে তারা বোর্ড গঠন করে এবং কুদ্দুস আলী সভাপতি হন। কিন্তু ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুদ্দুস কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলে ভোটাভুটির আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
- কংগ্রেসের তোপ: রাণীনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলী বলেন, “আজকের অনাস্থা ভোটে বামপন্থীদের ছদ্ম-আদর্শ প্রকাশ পেয়ে গেল। যারা তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এখন সাংসদ আবু তাহের খানের নেতৃত্বে এনসিপিআই করছে, তাদেরই পঞ্চায়েত সমিতি চালাতে সাহায্য করল সিপিএম।”
- এনসিপিআই-এর সাফাই: সাংসদ আবু তাহের খান জানান, পঞ্চায়েত সমিতিতে দীর্ঘদিনের অরাজকতা ও একজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই পরিবর্তন। সব সদস্যের সহমতের ভিত্তিতেই নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং সিপিএম এতে সহযোগিতা করেছে।
- সিপিএম জেলা নেতৃত্বের অস্বস্তি: তবে এই ঘটনা নিয়ে অস্বস্তিতে সিপিআইএম জেলা নেতৃত্ব। দলীয় সদস্যদের এই ভূমিকার কথা অস্বীকার করে জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।