‘বিবাহ মানেই ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্ত নয়’, বৈবাহিক ধর্ষণ মামলায় বিরাট মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

‘বিবাহ মানেই ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্ত নয়’, বৈবাহিক ধর্ষণ মামলায় বিরাট মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া নয়— বৈবাহিক ধর্ষণ (Marital Rape) সংক্রান্ত এক মামলায় এমনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে বৈবাহিক ধর্ষণের সঠিক ব্যাখ্যা কীভাবে সম্ভব এবং সামগ্রিক বিষয়টির সাংবিধানিক বৈধতা কতটা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও শুনানি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলে। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “বিবাহের মাধ্যমে কোনো মানুষের নিজস্ব স্বাধীনতা শেষ হয়ে যায় না। তবে যেহেতু এটি একটি ফৌজদারি বিষয়, তাই শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে উল্লেখিত ব্যতিক্রমী বিধানটি অসংগত বা খেয়ালখুশি মতো ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

মামলার উৎস ও সওয়াল-জবাব ঘটনার সূচনা কর্ণাটকের এক দম্পতির মামলা থেকে। স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, স্বামী তাঁকে কেবল ‘যৌনদাসী’ হিসেবে ব্যবহার ও নির্যাতন করতেন। সেই মামলায় কর্ণাটক হাইকোর্ট বৈবাহিক ধর্ষণের অপরাধ গণ্য করে স্বামীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়।

শুনানিতে স্ত্রীর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং যুক্তি দেন, বর্তমান আইনের কাঠামোর ভেতরেই এমন অপরাধের বিচার হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে স্বামীর পক্ষে আইনজীবী করুণা নন্দী সংবিধানের মূল কাঠামো ও আইন সংশোধনের নানা জটিল দিক তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, আইনে কোনো ব্যতিক্রমী ধারা থাকলেও নিরপেক্ষ বিচারের স্বার্থে তাকে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা এক অত্যন্ত জরুরি প্রশ্ন।

প্রেক্ষিত উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে মাসে দিল্লি হাইকোর্টে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে দুই বিচারপতির মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। এক বিচারপতি আইনের ব্যতিক্রমী ধারা বাতিলের পক্ষে এবং অন্যজন তা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন। সেখান থেকেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। বৈবাহিক ধর্ষণের আইনি ও সাংবিধানিক নিষ্পত্তির দিকে এখন পুরো দেশ তাকিয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *