হাত নেই, আছে অদম্য জেদ! পায়ে তির ছুড়ে আমেদাবাদে সোনা জয় শীতল দেবীর

বিশ্ব তিরন্দাজির মঞ্চে আবারও ভারতের জয়পতাকা ওড়ালেন ১৭ বছর বয়সী প্যারা-তিরন্দাজ শীতল দেবী। আমেদাবাদে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্চারি প্যারা সিরিজ’-এর রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে কাজাখস্তানের আইজাদা সেইদানকে হারিয়ে নিজের কেরিয়ারে প্রথমবার এই খেতাব জয় করলেন তিনি। প্রযোগিতায় নিজের তৃতীয় প্রচেষ্টায় এই সোনা জিতে প্যারা-তিরন্দাজির ইতিহাসে আবারও নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখলেন এই ভারতীয় তারকা।
টানটান উত্তেজনার শুট-অফ লড়াই ঘরের মাঠ আমেদাবাদের গ্যালারিতে তখন গ্যালারিভরা দর্শকের টানটান উত্তেজনা। সোনা জয়ের লড়াইয়ে শুরু থেকেই একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছিলেন ভারতের শীতল দেবী এবং কাজাখস্তানের আইজাদা সেইদান। নির্ধারিত পর্বের শেষে দুই প্রতিযোগীই ১৪৪-১৪৪ পয়েন্ট অর্জন করলে ম্যাচ সমতায় পৌঁছায়।
এরপর ম্যাচ গড়ায় চরম স্নায়ুচাপের ‘শুট-অফ’-এ। চাপের মুখেও নিজের নামের মতোই ‘শীতল’ মানসিকতা ধরে রেখে নিশানা দাগেন এই ভারতীয় কন্যা। শুট-অফে নিখুঁত ১০ পয়েন্ট অর্জন করেন শীতল, যেখানে কাজাখস্তানের প্রতিপক্ষ পান ৯ পয়েন্ট। ফলে ১৪৪ (১০) – ১৪৪ (৯) ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রতিবন্ধকতা জয় করে ইতিহাস শীতল দেবীর এই অসামান্য সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা কাটিয়ে ওঠার গল্প নয়; তিনি ‘ফোকোমেলিয়া’ (Phocomelia) নামক একটি বিরল জন্মগত শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে জন্মেছিলেন। এই অবস্থার কারণে জন্ম থেকেই তাঁর দুটি হাত গঠিত হয়নি। তবে শারীরিক এই সীমাবদ্ধতাকে কখনোই নিজের প্রতিবন্ধক হতে দেননি তিনি।
অদম্য আত্মবিশ্বাস ও কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে পা এবং থুতনির সাহায্যে ধনুকে তির যোজনা করার অনন্য কৌশল আয়ত্ত করেছেন শীতল। হাত না থাকা সত্ত্বেও কেবল পায়ের জোরে তির ছুড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বের অন্যতম সেরা প্যারা-তিরন্দাজ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বারবার ভারতের নাম উজ্জ্বল করছেন তিনি।