নিয়মিত ওষুধ খেয়েও ব্লাড সুগার হাই? নেপথ্যে থাকতে পারে এই ৭ কারণ!

নিয়মিত ওষুধ খেয়েও ব্লাড সুগার হাই? নেপথ্যে থাকতে পারে এই ৭ কারণ!

বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।

নোইডার মেট্রো হাসপাতাল অ্যান্ড হার্ট ইনস্টিটিউটের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. অক্ষয় চুগ জানান, শুধুমাত্র ওষুধ খেলেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম, মানসিক চাপ ও শারীরিক সংক্রমণ—এসব কিছুর ওপরই শর্করার মাত্রা নির্ভর করে।

ওষুধ খাওয়ার পরও ব্লাড সুগার বাড়ার ৭টি মূল কারণ:

  • প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ: অতিরিক্ত প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট যেমন—সাদা ভাত, মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয় এবং বেকারি খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ অনেকটাই বেড়ে যায়।
  • ওষুধের সময়ের হেরফের: ‘ডায়াবেটিস জার্নাল’-এর মতে, নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ না খেলে বা ভুল সময়ে খেলে রক্তের শর্করার মাত্রায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ওজনের বৃদ্ধি: ওজন বৃদ্ধি পেলে বা কায়িক শ্রমের অভাব হলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। ফলে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করলেও রক্তনালী তা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না।
  • অপর্যাপ্ত ঘুম: ‘কিউরিয়াস জার্নাল’-এর গবেষণা অনুযায়ী, দৈনিক ৭-৯ ঘণ্টার কম ঘুম বা ঘুমের বাজে মান ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমিয়ে দেয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়।
  • সংক্রমণ ও শারীরিক প্রদাহ: জ্বর, ইনফেকশন বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা থাকলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ: দুশ্চিন্তা ও স্ট্রেস শরীরের হরমোনে প্রভাব ফেলে, যার ফলে ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও সুগার বাড়তে পারে।
  • নিয়মিত সুগার পর্যবেক্ষণ না করা: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ না করলে কখন সুগার ওঠানামা করছে তা ধরা সম্ভব হয় না, ফলে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আটকায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল ওষুধের ওপর ভরসা না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়ম মেনে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *