“টাকা উদ্ধারে করব সাহায্য”, মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক! ৮ দিনের সিআইডি হেফাজতে সুমিত

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়। জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা নথিতে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।
তদন্তকারীদের দাবি, জেরার মুখে সুমিত জানিয়েছেন—এই কোটি কোটি টাকার লেনদেনের পেছনে একাধিক প্রভাবশালী নাম জড়িত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সেই দুর্নীতির টাকা উদ্ধার করতেও তিনি পুলিশকে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে ভবানী ভবন থেকে কড়া নিরাপত্তায় সুমিত রায়কে মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে ৮ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার পরপরই গত বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি সুমিতকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ইতিপূর্বে একাধিকবার তলব করা হলেও সুমিতের বয়ানে বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাঁর আত্মগোপন করার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। সেই কারণেই রক্ষাকবচ উঠতেই তাঁকে জালে তোলে সিআইডি।
গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য এখন এই দুর্নীতি চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল নির্দেশদাতাদের খুঁজে বের করা। সুমিত কার নির্দেশে আর্থিক লেনদেন সামলাতেন এবং এই চক্রে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, সুমিতের এই স্বীকারোক্তি গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
উল্লেখ্য, শালবনি জমি দুর্নীতির পাশাপাশি এর আগে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতেও সুমিত রায়কে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত একটি আর্থিক তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর।