বালেশ্বরে উদ্ধার ৫ শিশু ওরাংওটাং: আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের ছায়া, জাকার্তায় ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা

বালেশ্বরে উদ্ধার ৫ শিশু ওরাংওটাং: আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের ছায়া, জাকার্তায় ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা

ওডিশার বালেশ্বরের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি বিরল শিশু ওরাংওটাংকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের রহস্য। প্রাথমিক অনুমান, প্রাণীগুলিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে ওডিশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। পশ্চিমবঙ্গের দিঘার একটি হোটেল থেকে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাংগুলিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।

নন্দনকাননে নিরাপদ আশ্রয় ও পাচারের সন্দেহ

গত ৮ সেপ্টেম্বর বালেশ্বরের একটি জঙ্গল থেকে ওরাংওটাংগুলিকে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। আপাতত তাদের ওডিশার নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে রাখা হয়েছে, যেখানে তারা সুস্থ ও সাবলীলভাবেই সময় কাটাচ্ছে।

সাধারণত সুমাত্রা এবং বোর্নিও (কালিমান্তান) দ্বীপেই ওরাংওটাং দেখতে পাওয়া যায়। ভারতে প্রাকৃতিকভাবে এদের উপস্থিতি না থাকায়, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের কাজ।

জিনগত উৎস নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা

ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রকের জনসংযোগ ও বৈদেশিক সহযোগিতা ব্যুরোর প্রধান রিস্তিয়ান্তো প্রিবাদি জানিয়েছেন, প্রাণীগুলির শারীরিক গঠন দেখে এগুলিকে ‘সুমাত্রান ওরাংওটাং’ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে পাঁচটি ওরাংওটাংয়েরই ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট এলে তাদের সঠিক প্রজাতি ও উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে।

আন্তর্জাতিক নিয়মে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

উদ্ধার হওয়া এই শিশু ওরাংওটাংগুলিকে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর জন্য ভারতের CITES ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, জাকার্তা ও নতুন দিল্লির কূটনৈতিক মিশন, ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সি (BRIN) এবং কৃষি মন্ত্রকের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্যসংক্রান্ত (CITES) বিধিমালা এবং ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব আইন মেনেই পুরো হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হবে।

এই উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা— যার মধ্যে রয়েছে লিউসার ইকোসিস্টেম ফাউন্ডেশন (YEL), ইন্দোনেশিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ নেটওয়ার্ক (JSI), সেন্টার ফর ওরাংওটাং প্রোটেকশন (COP) এবং ইন্দোনেশিয়ান ওরাংওটাং ফোরাম (FORINA)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *