অন্তর্বাস খুলিয়ে তল্লাশি, গোপনাঙ্গে হাত? সাঁকরাইল গার্লস স্কুলের ঘটনায় সরগরম হাওড়া, পুলিশের দ্বারস্থ শিক্ষিকা

অন্তর্বাস খুলিয়ে তল্লাশি, গোপনাঙ্গে হাত? সাঁকরাইল গার্লস স্কুলের ঘটনায় সরগরম হাওড়া, পুলিশের দ্বারস্থ শিক্ষিকা

হাওড়া: ডিএলএড (D.El.Ed) পরীক্ষার হলে ঢোকার মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের চরম হেনস্থা ও আপত্তিকরভাবে তল্লাশি চালানোর অভিযোগে তুমুল শোরগোল পড়ল হাওড়ায়। পরীক্ষার নিরাপত্তার নামে শিক্ষিকাদের অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা এবং তাঁদের গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল একটি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এজেন্সির বিরুদ্ধে। ৮ সেপ্টেম্বর হাওড়ার সাঁকরাইল গার্লস স্কুলে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে, যা শনিবার জানাজানি হতেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ এক শিক্ষিকা ইতিমধ্যেই সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন পরীক্ষা চলছিল। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে। কিন্তু অভিযোগ, হলের বাইরে চেকিংয়ের নামে শিক্ষিকাদের শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়। একাধিক শিক্ষিকার দাবি, তল্লাশির সময়ে তাঁদের পোশাক ও অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয় এবং আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করা হয়। এমনকি চেকিংয়ের সময় ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছিল বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীরা। শনিবার পরীক্ষা শেষ হতেই শিক্ষিকারা একজোট হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এবং সাঁকরাইল গার্লস স্কুল কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক স্থানে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে এই বিষয়ে হাওড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কাউন্সিলের (DPSC) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিলীপকুমার সাহা জানান, কাউন্সিলে এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *