হানিট্র্যাপ ও সুপারি কিলার! ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনে গ্রেফতার কলকাতার ট্রাফিক সার্জেন্ট

কলকাতা: ঝাড়খণ্ডের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে খুনের মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ধৃতেরা হলেন কলকাতা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস। শুক্রবার কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত ধৃত দু’জনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের ঝাড়খণ্ডের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ‘হানিট্র্যাপ’ সন্দেহ:
ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, খুনের আগে নিহত ব্যবসায়ীর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও গতিবিধির তথ্য অয়ন ও টুইঙ্কলই মূল অভিযুক্তদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ট্রাফিক বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অয়ন এই তথ্য সরবরাহ করেন। তদন্তকারীদের মতে, মূল অভিযুক্ত অশোক সিং রাঘবের সঙ্গে অয়নের সরাসরি যোগাযোগ ছিল না; সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসের মাধ্যমেই তাঁদের পরিচয় হয়। টুইঙ্কলের সঙ্গে ফেসবুকে ও হোয়াটসঅ্যাপে অশোকের নিয়মিত কথা হতো। এই ঘটনায় টুইঙ্কলকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক বিবাদ ও সুপারি কিলার:
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত শত্রুতাই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। প্রধান অভিযুক্ত অশোক সিং কলকাতার বাসিন্দা হলেও ঝাড়খণ্ডে একটি সংবাদপত্র চালাতেন এবং সেখানকার কয়লা বলয়ে (কোলিয়ারি বেল্ট) তাঁর ভালো যোগাযোগ ছিল। অশোকের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ থাকায় সুপারি কিলারদের ধার্য করা ১৫ লক্ষ টাকাও তিনি পুরোপুরি মেটাতে পারেননি। কলকাতায় গাড়ি ও অন্যান্য সহায়তার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি টুইঙ্কলের মাধ্যমে অয়নের সাহায্য নেন।
অভিযুক্ত সার্জেন্ট অয়ন ও লালবাজারের প্রতিক্রিয়া:
ধৃত সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার (DC) গৌতম গুপ্তের ছেলে। বিগত ১২ বছরের কর্মজীবনে অয়নের বিরুদ্ধে লালবাজারে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের রেকর্ড ছিল না। দীর্ঘদিন চিংড়িঘাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিহারের আরও ৫ জন অভিযুক্তের খোঁজ মিলেছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে।