‘আইনস্টাইনে আস্থা, মমতায় নয়!’ নির্বাচন কমিশনে জোড়াফুল প্রতীকের দাবি নিয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত
নয়াদিল্লি: আসল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিদার কে— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? এই দ্বন্দ্বে নতুন মোড় এল নির্বাচন কমিশনের দরবারে। শনিবার সকালে নয়াদিল্লির দ্বারকায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি পেশ করে বিদ্রোহী শিবির। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক শেষে বেরিয়ে তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনের ভবন থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, “আমি অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদে বিশ্বাস রাখব, কিন্তু মমতায় নয়।” দলে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি যোগ করেন, “এতদিন ধরে একজনের কথায় দল চলেছে। কোনো গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বা সংবিধান মানা হতো না। তৃণমূল কোনো পরিবারতান্ত্রিক দল নয়।”
উলুবেড়িয়া পূর্বের এই বিধায়কের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল শনিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেয়। ঋতব্রতের দাবি, সাংগঠনিক দিক থেকে এবং বিধায়ক সংখ্যায় তাঁদের পক্ষেই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। জেলা স্তরের সিংহভাগ নেতাই তাঁদের সঙ্গে আছেন। তবে কতজন সাংসদের সমর্থন রয়েছে, সেই প্রশ্নে কৌশলী অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “দেখতে থাকুন, সঠিক সময়েই সব জানাব।”
সামনেই রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঋতব্রত জানান, উপনির্বাচনের আগেই যাতে প্রতীক ও নাম নিয়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেই আর্জি জানানো হয়েছে। কমিশন আরও কিছু নথি তলব করেছে, যা বিকেলের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।
বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন এবার মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনবে। উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে রাজপথ থেকে আইনি যুদ্ধ— শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকে ঘাসফুল প্রতীক, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।