পিতৃপক্ষে শুধু পূর্বপুরুষদের জল দিচ্ছেন? নিজের অজান্তেই এই বড় ভুল করছেন না তো!

পিতৃপক্ষে শুধু পূর্বপুরুষদের জল দিচ্ছেন? নিজের অজান্তেই এই বড় ভুল করছেন না তো!

সনাতন ধর্মে পিতৃপক্ষ মানেই পূর্বপুরুষদের স্মরণ, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ করা। সাধারণ মানুষের ধারণা, মহালয়ার আগের এই ১৬ দিন শুধুমাত্র পরিবারের প্রয়াত পিতৃপুরুষদের জন্যই নিবেদিত। কিন্তু শাস্ত্র বলছে অন্য কথা! ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে কেবল নিজের বংশের পূর্বপুরুষই নন, প্রাচীন ঋষি-মুনিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো অত্যন্ত জরুরি।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হতে চলেছে পিতৃপক্ষ। তার আগে জেনে নিন, এই সময়ে ‘ঋষি তর্পণ’-এর গুরুত্ব ঠিক কতটা এবং কেন এটি এড়িয়ে গেলে মারাত্মক ভুল হবে।

কেন করতে হয় ‘ঋষি তর্পণ’? শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মানব জন্মের পর থেকেই প্রতিটি মানুষের কাঁধে তিনটি প্রধান ঋণ বা দায়বদ্ধতা থাকে:

  • দেব ঋণ
  • ঋষি ঋণ
  • পিতৃ ঋণ

আমাদের জ্ঞান, ধর্ম এবং বৈদিক ঐতিহ্যকে যুগ যুগ ধরে টিকিয়ে রেখেছেন প্রাচীন ঋষিরাই। তাঁদের সেই অসামান্য অবদান স্মরণ করে ‘ঋষি ঋণ’ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান মাধ্যমই হলো এই ঋষি তর্পণ।

কাদের উদ্দেশ্যে করা হয় এই তর্পণ? প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সূচনার আগেই বা তর্পণের সময় পিতৃপুরুষদের জল দেওয়ার আগে ‘সপ্তর্ষি’-কে স্মরণ করে জল অর্পণ করতে হয়। এই সাত জন মহান ঋষি হলেন— কশ্যপ, অত্রি, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র, গৌতম, জমদগ্নি এবং বশিষ্ঠ

তর্পণের আসল নিয়ম কী? ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, যে জ্ঞান ও বৈদিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে আমরা তর্পণ বা শ্রাদ্ধের মতো পবিত্র কাজগুলো করি, তার মূল উৎসই হলেন এই মুনি-ঋষিরা। তাই পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার আগে এই ঋষিদের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম বড় নিয়ম। সঠিক নিয়ম মেনে ভক্তিভরে এই আচার পালন করলেই তবে তর্পণ সম্পূর্ণ হয় এবং পুণ্যলাভ ঘটে। অন্যথায় তর্পণের আসল ফল থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *