মানুষের ধ্বংসের ব্লু-প্রিন্ট বানাচ্ছে AI? বিজ্ঞানীদের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে কাজে লাগিয়ে এবার মানবসভ্যতা ধ্বংসের ছক! তবে বড়সড় বিপদের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করল মার্কিন এআই কো ম্পা নি ‘অ্যানথ্রপিক’ (Anthropic)। সম্প্রতি তাদের অত্যাধুনিক AI মডেল ব্যবহার করে ভয়ংকর জৈবিক অস্ত্র (Biological Weapons) তৈরির একটি চেষ্টা হাতেনাতে ধরে ফেলেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই হাড়হিম করা তথ্য।
ভয়ংকর এই বিপদের কারণ কী? অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, বর্তমানে AI-এর ‘জৈবিক অপব্যবহার’ তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। তাদের ‘ফেইবল ফাইভ’-এর মতো নতুন মডেলগুলি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এতটাই পারদর্শী যে, জীবনদায়ী টিকা আবিষ্কার এবং ধ্বংসাত্মক জৈবাস্ত্র তৈরির পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও, সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে প্রতিটি পদক্ষেপে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে সংস্থাটি।
যেভাবে ফাঁস হলো মারণাস্ত্র তৈরির ছক:
- চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বিপদ: গত মে মাসে অ্যানথ্রপিকের ‘বায়োলজিক্যাল সেইফটি ক্লাসিফায়ার’ একটি সন্দেহজনক গবেষণার আবেদন চিহ্নিত করে। এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল চিকুনগুনিয়া ভাইরাসকে এমনভাবে পরিবর্তন করা, যাতে তা আরও দ্রুত ছড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে পারে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এর সঙ্গে একটি সামরিক সংস্থার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।
- বার্ড ফ্লু ও বিষাক্ত পেপটাইড: এর পাশাপাশি কো ম্পা নির জনপ্রিয় ‘ক্লড’ (Claude) মডেলকে কাজে লাগিয়ে বার্ড ফ্লু (Avian Influenza) এবং মারাত্মক বিষাক্ত পেপটাইড তৈরির আরও একটি বিপজ্জনক গবেষণার অপচেষ্টাও রুখে দিয়েছে তারা।
কী কড়া পদক্ষেপ নিল অ্যানথ্রপিক? অ্যানথ্রপিকের ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’-এর প্রধান জ্যাকব ক্লেইন জানিয়েছেন, বাস্তবে অপরাধীরা সিনেমার ভিলেনদের মতো খোলাখুলি ধ্বংসের কথা বলে না, তাদের কাজ হয় অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই পেশাদার বিজ্ঞানী।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খাতিরে ওই গবেষক ও গবেষণাগারের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে, জড়িত সমস্ত বিজ্ঞানীদের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (Ban) করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ভয়ংকর বিপদ এড়াতে AI মডেলের নিরাপত্তাবলয় আরও দুর্ভেদ্য করে তুলছে অ্যানথ্রপিক।