দিশা সালিয়ান মামলায় সিবিআই-এর চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ! এফআইআরে নাম উদ্ধব-আদিত্য সহ ২১ জনের

দিশা সালিয়ান মামলায় সিবিআই-এর চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ! এফআইআরে নাম উদ্ধব-আদিত্য সহ ২১ জনের

মুম্বই: প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর তদন্তে এক অভূতপূর্ব মোড় এল। বম্বে হাই কোর্টের কঠোর নির্দেশের পর এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর (FIR) দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। নতুন দায়ের করা এই এফআইআরে সরাসরি গণধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিবিআই-এর এই এফআইআরে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, তাঁর পুত্র আদিত্য ঠাকরে, অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এবং তৎকালীন ডিসিপি বিশাল ঠাকুরসহ মোট ২১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ রাজনৈতিক তরজা: ২০২০ সালের ৮ জুন রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ মুম্বইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতল আবাসন থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশা সালিয়ানের। সেই সময় মুম্বই পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা ‘এডিআর’ (ADR) হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। এর মাত্র কয়েক দিন পরই বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই দিশা ও সুশান্তের মৃত্যুর মধ্যে কোনো গভীর গোপন সূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র জল্পনা ও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চলে।

পরিবারের লড়াই ও আদালতের কঠোর নির্দেশ: দিশার পরিবার প্রথম থেকেই এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে অস্বীকার করে আসছিল। পরিবারের মূল প্রশ্ন ছিল—ঘটনার শুরুতেই কেন কোনো এফআইআর দায়ের না করে কেবল দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল? এমনকি ঘটনার পাঁচ বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং এডিআর-এর কপি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে আদালতের দ্বারস্থ হন দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান।

পরিবারের আর্জির প্রেক্ষিতে বম্বে হাই কোর্ট বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সিবিআই-কে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের ভার নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, মুম্বই পুলিশকে মামলা সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডিং দ্রুত সিবিআই-এর হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশের পরেই দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের বয়ান পুনরায় নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *