UCC ইস্যুতে NDA-র অন্দরে অস্বস্তি, শাহের ঘোষণার পরই সোচ্চার নীতীশ-চন্দ্রবাবু

UCC ইস্যুতে NDA-র অন্দরে অস্বস্তি, শাহের ঘোষণার পরই সোচ্চার নীতীশ-চন্দ্রবাবু

নয়াদিল্লি: ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি ও এনডিএ (NDA) শাসিত সমস্ত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করা হবে— কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই ঘোষণার পরপরই জোটের অন্দরে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ইউসিসি রূপায়ণ নিয়ে বিজেপির প্রধান দুই শরিক দল, নীতীশ কুমারের জেডিইউ (JD-U) এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি (TDP)-র আপত্তিতে স্পষ্ট যে, এই ইস্যুতে জোটসঙ্গীদের রাজি করানো বিজেপির জন্য এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

শরিকদের আপত্তি ও আলোচনার দাবি ইউসিসি ইস্যুতে কোনো রকম তাড়াহুড়ো করতে নারাজ নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ। দলের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা ইতিমধ্যেই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন। জেডিইউ নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সব ধর্ম, সংখ্যালঘু সমাজ এবং রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে এই বিধি চালু করা অনুচিত। বিহারে কোনোভাবেই এটি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না বলেও দলের তরফ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত আলোচনা ও ঐকমত্য তৈরির পরেই ইউসিসি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

বিজেপির কৌশল ও জোট রক্ষার পথ শরিকদের এই অবস্থানে কিছুটা সতর্ক বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, সরাসরি সংঘাতের পথে না হেঁটে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় দল। শরিকদের কাছে উত্তরাখণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির— যেখানে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হয়েছিল।

অতীতে ৩৭০ ধারা বিলোপ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কিংবা তিন তালাক বাতিলের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলিতে যেমন শরিকদের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল, ইউসিসির ক্ষেত্রেও সেই একই কৌশল নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০২৯ সালের মধ্যে জোটের ঐক্য বজায় রেখে কীভাবে বিজেপি এই পথ অতিক্রম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *