‘চক্রান্ত করে তাড়ানো হলো!’ বামেদের চালে বিস্ফোরক নওশাদ, ভেঙে গেল জোট?

‘চক্রান্ত করে তাড়ানো হলো!’ বামেদের চালে বিস্ফোরক নওশাদ, ভেঙে গেল জোট?

উপনির্বাচনের মুখে বাংলায় বাম-আইএসএফ সমীকরণ সম্পূর্ণ ভেস্তে গেল। বামফ্রন্ট একতরফাভাবে উপনির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই প্রকাশ্যে এল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর চরম ক্ষোভ। বিধানসভায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে আলিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে জোট ভাঙার জন্য সরাসরি সিপিএম নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুললেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।

আলিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে নওশাদের প্রধান অভিযোগ:

  • উত্তর মেলেনি চিঠির: বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে পরপর ৩ বার চিঠি পাঠালেও কোনো জবাব দেয়নি সিপিএম নেতৃত্ব।
  • এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল: সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে “পরের বৈঠকে জানানো হবে” বলে বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।
  • একতরফা সিদ্ধান্ত: কোনো প্রকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা ন্যূনতম সৌজন্য না দেখিয়েই একা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেয় বামফ্রন্ট।

উপনির্বাচনে আইএসএফ-এর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত:

বিধানসভা কেন্দ্রআইএসএফ-এর রাজনৈতিক অবস্থান
নন্দীগ্রামনিজস্ব প্রার্থী দেবে (আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত)।
রেজিনগরএই আসনে কোনো প্রার্থী দাঁড় করাবে না দল।

“জনতার আদালতেই বিচার হবে”

ভবিষ্যত পথচলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এখন রাজ্যবাসীই দেখুক—আইএসএফ নিজে থেকে জোট ভেঙেছে, নাকি চক্রান্ত করে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো! এর সঠিক বিচার জনতার আদালতই করবে।”

উপনির্বাচনের আগে বাম ও আইএসএফ-এর এই আকস্মিক সংঘাত রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *